ব্যবহার
ভিটামিন এ অ্যাসিটেট (রেটিনাইল অ্যাসিটেট) ভিটামিন এ এর একটি স্থিতিশীল রূপ, যা সাপ্লিমেন্টে, বিশেষ করে শিশুদের মাল্টিভিটামিনে ব্যবহার হয়। ভিটামিন এ এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। এই ঘাটতিতে রাতকানা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এটি স্বাভাবিক বৃদ্ধি, চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
খাওয়ার পর অন্ত্রে ভিটামিন এ অ্যাসিটেট সক্রিয় ভিটামিন রেটিনলে পরিণত হয়। চোখের যে রঞ্জক কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে, তা তৈরিতে রেটিনল দরকার। এটি ত্বক এবং চোখ, অন্ত্র ও শ্বাসনালীর ভেতরের আবরণ সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। অতিরিক্ত ভিটামিন এ লিভারে জমা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ৭০০ মাইক্রোগ্রাম (প্রায় ২,৩০০ IU) এবং পুরুষদের প্রায় ৯০০ মাইক্রোগ্রাম (প্রায় ৩,০০০ IU); শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম লাগে। নির্ণীত ঘাটতির চিকিৎসায় অল্প সময়ের জন্য বেশি মাত্রা দেওয়া হয়, যা কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে নেওয়া উচিত। খাবারের সাথে খান, কারণ চর্বি শোষণে সাহায্য করে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য ভিটামিন এ যুক্ত পণ্য বা আইসোট্রেটিনয়েন, অ্যাসিট্রেটিনের মতো রেটিনয়েড ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না, এতে ভিটামিন এ বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বেশি মাত্রা ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টাইরামিন ও মিনারেল অয়েল শোষণ কমাতে পারে। সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
শরীরে ভিটামিন এ এর মাত্রা আগে থেকেই বেশি থাকলে (হাইপারভিটামিনোসিস এ) বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। গর্ভাবস্থায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। দীর্ঘদিন বেশি খেলে মাথাব্যথা, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চামড়া ওঠা, চুল পড়া, হাড় বা গিঁটে ব্যথা, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা ও লিভারের সমস্যা হতে পারে।
বমিসহ তীব্র মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ভিটামিন এ দরকার, তবে অতিরিক্ত হলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের সাপ্লিমেন্ট থেকে দৈনিক প্রায় ৩,০০০ মাইক্রোগ্রাম (১০,০০০ IU) এর বেশি নেওয়া উচিত নয় এবং কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্বাভাবিক মাত্রা উপযুক্ত।
সতর্কতা
একাধিক উৎস থেকে ভিটামিন এ যেন না নেওয়া হয়, তাই সব সাপ্লিমেন্টের লেবেল মিলিয়ে দেখুন। লিভারের রোগ, কিডনির রোগ বা বেশি মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। শিশুদের ভিটামিন তাদের নাগালের বাইরে রাখুন, কারণ তারা এটিকে চকলেট মনে করে বেশি খেয়ে ফেলতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে বেশি খেলে বমিভাব, বমি, ঝিমুনি, তীব্র মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা এবং শিশুদের মাথার নরম অংশ ফুলে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি খেলে লিভার ও হাড়ের ক্ষতি হয়। বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু হলে, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন (চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।