ব্যবহার
ওয়ারফারিন সোডিয়াম একটি অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট, যাকে সাধারণত রক্ত পাতলা করার ঔষধ বলা হয়। পায়ের শিরায় (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) ও ফুসফুসে (পালমোনারি এমবোলিজম) রক্তজমাট চিকিৎসা ও প্রতিরোধে, এবং এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন) বা যান্ত্রিক হার্ট ভালভযুক্ত মানুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু হার্ট অ্যাটাকের পরে এবং রক্তজমাটের উচ্চ ঝুঁকির অন্যান্য অবস্থাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ওয়ারফারিন লিভারে ভিটামিন K এর কাজ বন্ধ করে। রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী কয়েকটি ক্লটিং ফ্যাক্টর (প্রোটিন) তৈরিতে ভিটামিন K দরকার। কার্যকর ক্লটিং ফ্যাক্টর কমে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে বেশি সময় লাগে, ফলে ক্ষতিকর রক্তজমাট তৈরি বা বড় হওয়ার সম্ভাবনা কমে। পূর্ণ কার্যকারিতা পেতে কয়েক দিন লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রত্যেক মানুষের মাত্রা আলাদা এবং INR (ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেশিও) নামের রক্ত পরীক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসক তা ঠিক করেন। ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেভাবে দিনে একবার একই সময়ে, সাধারণত সন্ধ্যায় খান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন বা বন্ধ করবেন না। একটি মাত্রা বাদ পড়লে সেদিনই মনে পড়লে খেয়ে নিন; পরের দিন কখনো দ্বিগুণ মাত্রা খাবেন না। মাত্রা ও INR এর ফলাফল লিখে রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন অসংখ্য ঔষধ, খাবার ও ভেষজ পণ্যের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও এই ধরনের ব্যথানাশক রক্তপাতের ঝুঁকি অনেক বাড়ায়; নিয়মিত বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামলও INR বাড়াতে পারে। অনেক অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মেট্রোনিডাজোল, কো-ট্রাইমক্সাজোল, ইরিথ্রোমাইসিন ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন), ছত্রাকনাশক (ফ্লুকোনাজোল, মাইকোনাজোল), অ্যামিওডারোন, ওমিপ্রাজল ও কিছু কোলেস্টেরলের ঔষধ এর প্রভাব বাড়াতে পারে। রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর প্রভাব কমাতে পারে। ভিটামিন K সমৃদ্ধ খাবার (সবুজ শাকসবজি) ও অ্যালকোহলের পরিমাণে বড় পরিবর্তনও INR বদলায়। প্রত্যেক চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান যে আপনি ওয়ারফারিন খান, এবং যেকোনো ঔষধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু বা বন্ধ করার আগে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
ওয়ারফারিনে অ্যালার্জি থাকলে, গর্ভবতী হলে (বিশেষ করে প্রথম ৩ মাস ও প্রসবের কাছাকাছি), সক্রিয় রক্তপাত বা রক্তপাতের উচ্চ ঝুঁকি থাকলে (যেমন সক্রিয় পাকস্থলীর ঘা, সাম্প্রতিক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অথবা মস্তিষ্ক, চোখ বা মেরুদণ্ডে সাম্প্রতিক বড় অস্ত্রোপচার), অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- রক্তপাত: নাক দিয়ে রক্ত, মাড়ি দিয়ে রক্ত, সহজে কালশিটে পড়া, মাসিকে বেশি রক্ত
- বমিভাব বা বমি
- চুল পাতলা হওয়া
- ত্বকে র্যাশ
- কদাচিৎ ত্বকে ব্যথাযুক্ত দাগ যা কালচে হয়ে যায় (স্কিন নেক্রোসিস) বা পায়ের আঙুল বেগুনি হওয়া
গুরুতর রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন: প্রস্রাবে রক্ত বা লাল বা কালো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, কাশির সাথে রক্ত, তীব্র মাথাব্যথা, হঠাৎ মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি, থামছে না এমন নাক দিয়ে রক্ত, অথবা পড়ে গিয়ে বা মাথায় আঘাত পেলে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ওয়ারফারিন গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি ও রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা যাবে না; শুধু বিশেষজ্ঞ কিছু বিরল ক্ষেত্রে (যেমন যান্ত্রিক হার্ট ভালভযুক্ত কিছু নারী) ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভবতী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান। বুকের দুধে খুব সামান্য যায় বলে সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া যায়।
সতর্কতা
নিয়মিত INR পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। সাথে একটি অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট কার্ড বা নোট রাখুন। খাবার ও অ্যালকোহলের পরিমাণ স্থির রাখুন। বমি, ডায়রিয়া বা জ্বরসহ অসুখ হলে চিকিৎসককে জানান, কারণ এতে INR বদলাতে পারে। আঘাত এড়িয়ে চলুন, নরম টুথব্রাশ ও ইলেকট্রিক রেজর ব্যবহার করুন। যেকোনো অস্ত্রোপচার, দাঁত তোলা বা প্রসিডিউরের আগে চিকিৎসক ওয়ারফারিন কীভাবে সামলাতে হবে তা ঠিক করবেন। বয়স্ক এবং লিভার, কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ওয়ারফারিন খেলে গুরুতর বা প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ হতে পারে। বাড়তি ট্যাবলেট খেলে বা শিশু কোনো ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে কোনো লক্ষণ না থাকলেও সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন। চিকিৎসক ভিটামিন K ও অন্যান্য চিকিৎসায় এর প্রভাব উল্টে দিতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট, ভিটামিন K বিরোধী (কুমারিন ধরন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ভুল এড়াতে ভিন্ন শক্তির ট্যাবলেট আলাদা করে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।