ব্যবহার
জিংক অ্যাসিটেট একটি জিংক লবণ, যার দুটি প্রধান ব্যবহার আছে। ত্বকে এটি চুলকানিরোধী লোশন, ক্রিম ও স্প্রেতে (প্রায়ই অ্যান্টিহিস্টামিন বা ক্যালামাইনের সাথে) থাকে, যা পোকামাকড়ের কামড়, হালকা র্যাশ, ঘামাচি, বিষাক্ত গাছের সংস্পর্শ ও হালকা রোদে পোড়ার চুলকানি ও জ্বালা কমায়। মুখে খাওয়ার জন্য এটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে উইলসন্স ডিজিজ (বংশগত রোগ যেখানে শরীরে কপার জমে) এর চিকিৎসায় এবং জিংক সাপ্লিমেন্ট বা লজেন্স হিসেবে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ত্বকে জিংক অ্যাসিটেট মৃদু সংকোচক হিসেবে কাজ করে: ত্বকের উপরিভাগ টানটান করে, ভেজা জায়গা শুকায় এবং সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, ফলে চুলকানি কমে। উইলসন্স ডিজিজে মুখে খেলে জিংক অন্ত্রের আবরণে মেটালোথায়োনিন নামের একটি প্রোটিন তৈরি করায়, যা খাবারের কপার আটকে রাখে এবং তা শোষিত না হয়ে মলের সাথে বের হয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ত্বকের পণ্য: ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে চুলকানির জায়গায় দিনে ৩ থেকে ৪ বার পাতলা করে লাগান, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। বড় জায়গায়, কাটা ত্বকে বা ফোসকায় লাগাবেন না এবং চোখ ও মুখ এড়িয়ে চলুন। উইলসন্স ডিজিজের জন্য মুখে খাওয়ার জিংক অ্যাসিটেট কেবল বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, খালি পেটে, নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষাসহ খেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকের পণ্যের সাথে একই সময়ে অন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ক্রিম ব্যবহার করবেন না; পণ্যে ডাইফেনহাইড্রামিন থাকলে একই সময়ে মুখে ডাইফেনহাইড্রামিন খাবেন না। মুখে খাওয়া জিংক টেট্রাসাইক্লিন, কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক ও পেনিসিলামিনের শোষণ কমায়; আয়রন ও ক্যালসিয়াম জিংকের শোষণ কমাতে পারে। অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
কারা খাবেন না
জিংক অ্যাসিটেট বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জলবসন্ত বা হামের র্যাশে, অথবা কাটা ত্বকের বড় জায়গায় ত্বকের পণ্য লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকের পণ্যে লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, শুষ্কতা বা র্যাশ হতে পারে। মুখে খাওয়া জিংকে পেটের অস্বস্তি, বমিভাব এবং দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় কপারের ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি, ফোসকাসহ ছড়িয়ে পড়া ব্যথাযুক্ত র্যাশ, অথবা অ্যান্টিহিস্টামিনযুক্ত পণ্য বড় জায়গায় লাগানোর পর বিভ্রান্তি, ঝিমুনি বা হ্যালুসিনেশন (বিশেষ করে শিশুদের) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ছোট জায়গায় ব্যবহৃত জিংক অ্যাসিটেটের ত্বকের পণ্য গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়; দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনে লাগাবেন না। উইলসন্স ডিজিজের জন্য মুখে খাওয়ার জিংক অ্যাসিটেট গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চালিয়ে যাওয়া হয়, কারণ চিকিৎসা বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ।
সতর্কতা
ত্বকের পণ্য কেবল বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চুলকানি ৭ দিনের বেশি থাকলে, বেড়ে গেলে বা ত্বকে সংক্রমণ হলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহার করবেন না। কিছু স্প্রে দাহ্য; আগুন থেকে দূরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকের পণ্য, বিশেষ করে অ্যান্টিহিস্টামিনযুক্ত হলে, গিলে ফেলা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে; সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন। মুখে বেশি জিংক খেলে বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহৃত সংকোচক ও চুলকানিরোধী; মুখে খাওয়ার জিংক লবণ (উইলসন্স ডিজিজে কপার শোষণ রোধক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। স্প্রে তাপ ও আগুন থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।