ব্যবহার
জিংক অরোটেট একটি জিংক সাপ্লিমেন্ট। জিংকের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। জিংকের ঘাটতিতে ক্ষুধামন্দা, ক্ষত দেরিতে শুকানো, ঘন ঘন সংক্রমণ, চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা বা শিশুদের বৃদ্ধি কম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। খাবারে জিংক কম থাকলে বা অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়ের মতো বাড়তি প্রয়োজনে সাধারণ পুষ্টি সহায়তা হিসেবেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
জিংক একটি অত্যাবশ্যক খনিজ, অর্থাৎ শরীরের এটি দরকার কিন্তু শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। শরীরের শত শত এনজাইম (যে প্রোটিন রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত করে) কাজ করতে জিংকের সাহায্য লাগে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ক্ষত শুকানো, ত্বক, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। জিংক অরোটেটে জিংক অরোটিক অ্যাসিড নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগের সাথে যুক্ত থাকে, যা শরীরে জিংক পৌঁছাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মুখে সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের পণ্যে সাধারণত দিনে প্রায় ১০ থেকে ২৫ mg মৌলিক জিংক থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের সব উৎস মিলিয়ে দিনে ৪০ mg এর বেশি মৌলিক জিংক নেওয়া উচিত নয়। খাবারের সাথে বা পরে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়। শিশুদের শুধু ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় খাওয়ানো উচিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জিংক কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, ডক্সিসাইক্লিন ও টেট্রাসাইক্লিনের শোষণ কমাতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকটি জিংকের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরে খান।
- আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট জিংকের শোষণ কমাতে পারে; এগুলো আলাদা সময়ে খান।
- পেনিসিলামিন ও কিছু ডাইইউরেটিক (প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ) জিংকের মাত্রা বদলাতে পারে।
- দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় জিংক খেলে শরীরে কপারের মাত্রা কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। শরীরে জিংকের মাত্রা বেশি থাকলে বা কপারের ঘাটতি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, মুখে ধাতব স্বাদ এবং কম ক্ষেত্রে বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে কপারের ঘাটতি হয়ে রক্তস্বল্পতা বা অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।
তীব্র বমি, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় জিংকের প্রয়োজন হয়, এবং সাপ্লিমেন্টের স্বাভাবিক মাত্রা নিরাপদ বলে মনে করা হয়। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না। শুরু করার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে যদি আগে থেকেই জিংকযুক্ত প্রসবপূর্ব ভিটামিন খান।
সতর্কতা
- অন্য যে ভিটামিন খাচ্ছেন সেগুলোর লেবেল দেখে নিন, যাতে মোট জিংক বেশি না হয়ে যায়।
- কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি জিংক খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে মোচড়ানো ব্যথা, ডায়রিয়া ও মাথা ঘোরা হতে পারে। বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু খেলে, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (জিংক প্রস্তুতি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।