ব্যবহার
জিংক অক্সাইড ত্বকে আরামদায়ক, সুরক্ষামূলক আবরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। ন্যাপি (ডায়াপার) র্যাশ, ত্বকের হালকা জ্বালা, ঘষা লেগে ছাল ওঠা, ছোটখাটো পোড়া, কাটা ও ছড়ে যাওয়ায়, এবং প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারা রোগীদের ত্বককে আর্দ্রতা থেকে রক্ষায় এটি ব্যবহার হয়। সূর্যের রশ্মি আটকাতে সানস্ক্রিনে, এবং একজিমা, অর্শ (পাইলস) ও ক্ষতের কিছু পণ্যেও এটি থাকে।
কীভাবে কাজ করে
জিংক অক্সাইড ত্বকের ওপর একটি স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা, প্রস্রাব, পায়খানা ও অস্বস্তিকর পদার্থ ত্বক থেকে দূরে রাখে। এর হালকা শুকানো ও সংকোচক প্রভাব এবং হালকা জীবাণুনাশক গুণ ত্বক সারাতে সাহায্য করে। সানস্ক্রিনে এটি অতিবেগুনি (UV) রশ্মি প্রতিফলিত ও ছড়িয়ে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য। জায়গাটি পরিষ্কার করে আলতো করে শুকিয়ে নিন, তারপর প্রয়োজনমতো পাতলা করে লাগান। ন্যাপি র্যাশে প্রতিবার ন্যাপি বদলানোর সময়, বিশেষ করে রাতে শোয়ার আগে লাগান। সানস্ক্রিন হিসেবে বাইরে যাওয়ার ১৫ মিনিট আগে ভালোভাবে লাগান এবং অন্তত প্রতি ২ ঘণ্টা পর ও সাঁতার বা ঘামের পর আবার লাগান। প্রতিটি পণ্যের প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। ডাক্তার অন্যভাবে না বললে ত্বকের অন্য ঔষধ আগে লাগান, কারণ জিংকের মোটা স্তর সেগুলোকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দিতে পারে।
কারা খাবেন না
জিংক অক্সাইড বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না (কিছু পণ্যে ল্যানোলিন, সুগন্ধি বা অন্য উপাদান থাকে, যাতে এলার্জি হতে পারে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত খুব ভালোভাবে সহ্য হয়। কদাচিৎ লাগানোর জায়গায় চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ হতে পারে।
র্যাশ বাড়লে, ছড়িয়ে পড়লে, ফোসকা পড়লে, রস ঝরলে বা সংক্রমণের লক্ষণ (পুঁজ, ব্যথা বাড়া, গরম ভাব বা জ্বর) দেখা দিলে, অথবা প্রায় ৭ দিনে ভালো না হলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রায় কিছুই শোষিত হয় না বলে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ত্বকে ব্যবহার নিরাপদ। স্তনের বোঁটায় লাগালে দুধ খাওয়ানোর আগে মুছে ফেলুন।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ ও মুখ থেকে দূরে রাখুন।
- গভীর ক্ষত, ছিদ্র হওয়া ক্ষত, প্রাণীর কামড় বা গুরুতর পোড়ায় ব্যবহার করবেন না; ডাক্তার দেখান।
- পাউডার ধরনের পণ্য নিঃশ্বাসের সাথে টানবেন না, বিশেষ করে শিশুর কাছাকাছি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতি হয় না। বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে; ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বক সুরক্ষাকারী (আবরণ ও হালকা সংকোচক); ভৌত সানস্ক্রিন।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, মুখ বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।