বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Zinc Sulphate Monohydrate

  • 13 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 12 টি কোম্পানি

ব্যবহার

জিঙ্ক সালফেট মনোহাইড্রেট হলো জিঙ্কের একটি রূপ। জিঙ্ক এমন একটি খনিজ যা শরীরের বৃদ্ধি, ক্ষত শুকানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাদ ও গন্ধ বোঝার জন্য দরকার। জিঙ্কের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। শিশুদের ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইনের (ORS) সাথে দিলে ডায়রিয়া দ্রুত সারে ও কম তীব্র হয়। গর্ভাবস্থায় ও বাড়ন্ত শিশুদের রক্তস্বল্পতায় এটি প্রায়ই ফেরাস সালফেট ও ফলিক অ্যাসিডের সাথে একসাথে দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে

শরীরের অনেক এনজাইমের (যে প্রোটিন শরীরের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত করে) একটি অংশ হলো জিঙ্ক। ঘাটতি পূরণ হলে অন্ত্রের ভেতরের আবরণ সেরে ওঠে, রোগ প্রতিরোধী কোষ ঠিকমতো কাজ করে এবং ত্বক ও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়। ডায়রিয়ায় এটি অন্ত্রকে পানি ও লবণ ভালোভাবে শোষণ করতে সাহায্য করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা সাধারণত মৌলিক জিঙ্ক (লবণের ভেতরে আসল জিঙ্কের পরিমাণ) হিসেবে লেখা হয়।

  • ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর ডায়রিয়া: দিনে একবার ১০ mg মৌলিক জিঙ্ক, ১০ থেকে ১৪ দিন।
  • ৬ মাস ও তার বেশি বয়সী শিশুর ডায়রিয়া: দিনে একবার ২০ mg মৌলিক জিঙ্ক, ১০ থেকে ১৪ দিন।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের জিঙ্কের ঘাটতি: সাধারণত দিনে ২৫ থেকে ৫০ mg মৌলিক জিঙ্ক, চিকিৎসকের পরামর্শমতো।
  • আয়রন ও জিঙ্কের মিশ্র ঔষধ: লেবেলের নির্দেশ বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো।

পানি দিয়ে খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খাওয়া ভালো। পেটে অস্বস্তি হলে হালকা খাবারের সাথে খাওয়া যায়।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

জিঙ্ক টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন ও পেনিসিলামিনের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে; এগুলো জিঙ্কের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরে খান। আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টাসিড একসাথে খেলে জিঙ্কের শোষণ কমে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় জিঙ্ক খেলে শরীরে কপার (তামা) কমে যেতে পারে।

কারা খাবেন না

জিঙ্ক লবণ বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। কপারের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রায় খাবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • বমিভাব, পেটে অস্বস্তি বা পেট ব্যথা
  • বমি, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে
  • মুখে ধাতব স্বাদ
  • দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে কপার কমে যাওয়া, যা থেকে রক্তস্বল্পতা ও শ্বেত রক্তকণিকা কমে যেতে পারে

তীব্র বা বারবার বমি, র‍্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ, অথবা কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

স্বাভাবিক সাপ্লিমেন্ট মাত্রায় জিঙ্ক গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে ধরা হয় এবং গর্ভাবস্থায় প্রায়ই আয়রনের সাথে দেওয়া হয়। চিকিৎসকের দেওয়া মাত্রার বেশি খাবেন না।

সতর্কতা

শুধু নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খান। প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে প্রায় ৪০ mg মৌলিক জিঙ্কের বেশি দীর্ঘদিন খেতে হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খান। কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। আয়রন ও জিঙ্কের মিশ্র ঔষধ শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখুন, কারণ শিশুদের জন্য আয়রনের অতিমাত্রা বিপজ্জনক।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি জিঙ্ক খেলে তীব্র বমিভাব, বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ও মাথা ঘোরা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশু যদি আয়রনযুক্ত ঔষধ খেয়ে ফেলে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

খনিজ সাপ্লিমেন্ট (জিঙ্ক প্রস্তুতি)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Zinc Sulphate Monohydrate যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

13 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।