ব্যবহার
জোলেড্রনিক অ্যাসিড হাড় মজবুত করার একটি ঔষধ, যা শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এটি ব্যবহার করা হয়:
- ক্যান্সারের কারণে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে।
- মাল্টিপল মায়েলোমা বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারে হাড় ভাঙা ও অন্যান্য হাড়ের জটিলতা প্রতিরোধে।
- মেনোপজের পর নারীদের ও পুরুষদের অস্টিওপোরোসিস (হাড় পাতলা ও দুর্বল হওয়া) চিকিৎসায়, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার কারণে হওয়া অস্টিওপোরোসিসসহ।
- হাড়ের পেজেট’স রোগে।
কীভাবে কাজ করে
হাড় প্রতিনিয়ত ক্ষয় হয় আর নতুন করে তৈরি হয়। জোলেড্রনিক অ্যাসিড হাড় ক্ষয়কারী কোষগুলোর (অস্টিওক্লাস্ট) কাজ ধীর করে দেয়। এতে হাড় মজবুত হয়, হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমে এবং হাড় থেকে রক্তে ক্যালসিয়াম বের হওয়া কমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
জোলেড্রনিক অ্যাসিড ডাক্তার বা নার্স শিরায় অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ইনফিউশন (স্যালাইন) হিসেবে দেন, ডাক্তারের নির্দেশমতো। অস্টিওপোরোসিসে সাধারণত বছরে একবার, আর ক্যান্সার-সংক্রান্ত হাড়ের সমস্যায় সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহে একবার দেওয়া হয়। মাত্রা ও সময় রোগ এবং কিডনির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ইনফিউশনের আগে পরামর্শমতো যথেষ্ট পানি পান করুন। ডাক্তার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও দিতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন জেন্টামাইসিন) ও লুপ ডাইইউরেটিক (যেমন ফ্রুসেমাইড) ক্যালসিয়াম আরও কমিয়ে দিতে পারে।
- কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ, যেমন NSAID ব্যথানাশক, কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
- একই সময়ে অন্য বিসফসফোনেট ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম কম থাকলে এবং তা ঠিক করা না হলে।
- গুরুতর কিডনি সমস্যা থাকলে (অস্টিওপোরোসিসের মাত্রার ক্ষেত্রে)।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- জোলেড্রনিক অ্যাসিড বা অন্য বিসফসফোনেটে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ইনফিউশনের পর ১ থেকে ৩ দিন ফ্লুর মতো উপসর্গ (জ্বর, শীত লাগা, মাংসপেশি ও গিঁটে ব্যথা, মাথাব্যথা), বিশেষ করে প্রথমবার; বমিভাব, ক্লান্তি, হাড়ে ব্যথা এবং ক্যালসিয়াম বা ফসফেট কমে যাওয়া। কম দেখা যায়: কিডনির সমস্যা ও চোখে প্রদাহ। বিরল: চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি (অস্টিওনেক্রোসিস অব দ্য জ) এবং উরুর হাড়ের অস্বাভাবিক ভাঙন।
মুখের চারপাশে বা আঙুলে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন, মাংসপেশিতে টান বা খিঁচুনি, চোখ লাল ও ব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, চোয়ালে ব্যথা, দাঁত নড়ে যাওয়া বা মুখে না সারা ঘা, উরু, কোমর বা কুঁচকিতে নতুন ব্যথা, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যাবে না। যাঁদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, তাঁরা চিকিৎসার সময় নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন।
সতর্কতা
- প্রতিটি ডোজের আগে কিডনির পরীক্ষা করা হয়।
- শুরুর আগে দাঁতের চেকআপ করান, মুখ পরিষ্কার রাখুন এবং দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি এই ঔষধ নিচ্ছেন।
- চিকিৎসার আগে কম ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ঠিক করে নিতে হয়।
- অ্যাসপিরিনে হাঁপানি বাড়লে বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে রক্তে ক্যালসিয়াম, ফসফেট ও ম্যাগনেসিয়াম কমে যেতে পারে এবং কিডনির সমস্যা হতে পারে; চিকিৎসক দল এর চিকিৎসা করেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিসফসফোনেট (হাড় ক্ষয় রোধকারী)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ও ব্যাগ ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। দ্রবণ তৈরির পর হাসপাতালের কর্মীরা ঔষধের নির্দেশনা অনুযায়ী তা ব্যবহার করেন (সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে, অথবা অল্প সময়ের জন্য ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়)। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।