ব্যবহার
জুক্লোপেনথিক্সল ডেকানোয়েট একটি দীর্ঘমেয়াদী (ডিপো) অ্যান্টিসাইকোটিক ইনজেকশন। সিজোফ্রেনিয়া ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সাইকোসিসের রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসায়, বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন ট্যাবলেট খাওয়া কঠিন, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি হ্যালুসিনেশন, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও এলোমেলো চিন্তার মতো উপসর্গ ফিরে আসা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
জুক্লোপেনথিক্সল মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টর (মূলত D1 ও D2) আটকে দেয়। অতিরিক্ত ডোপামিন কার্যকলাপ সাইকোসিসের উপসর্গের সাথে সম্পর্কিত; এটি আটকালে উপসর্গ শান্ত হয়। ডেকানোয়েট রূপটি তেলে দ্রবীভূত থাকে এবং পেশি থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়, তাই একটি ইনজেকশন ২ থেকে ৪ সপ্তাহ কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু চিকিৎসক বা নার্স বড় পেশিতে (সাধারণত নিতম্ব বা উরুতে) গভীর ইনজেকশন হিসেবে এটি দেন, সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহে। রোগীর সাড়া ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক ও পরিবর্তন করেন। বয়স্কদের কম মাত্রা লাগে। নির্ধারিত ইনজেকশন বাদ দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ঘুমের ঔষধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক ও অন্য ঘুমপাড়ানি ঔষধ: তন্দ্রাভাব বাড়ে।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, কুইনিডিন, সোটালল, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (ইরিথ্রোমাইসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন) ও মেথাডোন: বিপজ্জনক হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি।
- লেভোডোপা ও পারকিনসনের অন্য ঔষধ: কার্যকারিতা কমতে পারে।
- লিথিয়াম: স্নায়ুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ: প্রভাব বাড়তে পারে।
- মেটোক্লোপ্রামাইড ও পিপারাজিন: নড়াচড়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- জুক্লোপেনথিক্সল বা থায়োজানথিন জাতীয় ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে।
- কোমা, গভীর তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা মদ, বার্বিচুরেট বা ওপিওয়েডজনিত বিষক্রিয়ায়।
- ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার) থাকলে।
- গুরুতর রক্তরোগ বা অস্থিমজ্জার কার্যক্ষমতা কমে গেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
তন্দ্রাভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দেখা, ওজন বাড়া, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা এবং নড়াচড়ার সমস্যা, যেমন শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁপুনি, অস্থিরতা (আকাথিসিয়া) ও অস্বাভাবিক পেশি নড়াচড়া সাধারণ। দীর্ঘদিন ব্যবহারে টারডিভ ডিসকিনেসিয়া (মুখ বা শরীরের অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া) হতে পারে। প্রোল্যাকটিন বাড়লে স্তন ফোলা, দুধ নিঃসরণ বা মাসিক বন্ধ হতে পারে।
পেশি শক্ত হওয়া, ঘাম ও বিভ্রান্তিসহ উচ্চ জ্বর (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম), অজ্ঞান হওয়া বা দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি, পা ফুলে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট (রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা), অথবা গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এর সংস্পর্শে আসা শিশুর জন্মের পর নড়াচড়ার সমস্যা বা উইথড্রয়াল উপসর্গ হতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; স্তন্যদান নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, মৃগী, পারকিনসন রোগ, লিভার বা কিডনি রোগ, গ্লকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বয়স্কদের অ্যান্টিসাইকোটিকে স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তন্দ্রাভাব হতে পারে, প্রভাব না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে গভীর তন্দ্রা, কোমা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, তীব্র নড়াচড়ার সমস্যা, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন ও শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টিপিক্যাল অ্যান্টিসাইকোটিক; থায়োজানথিন; দীর্ঘমেয়াদী ডিপো ইনজেকশন।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। জমাবেন না। ক্লিনিক বা হাসপাতাল প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করে; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।