Abiraterone Acetate
ব্যবহার
অ্যাবিরাটেরন অ্যাসিটেট পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি হরমোনভিত্তিক ক্যান্সারের ঔষধ। স্বাভাবিক হরমোন চিকিৎসায় আর সাড়া দেয় না এমন ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার (ক্যাস্ট্রেশন-রেজিস্ট্যান্ট) এবং নতুন ধরা পড়া উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, এখনও হরমোনে সাড়া দেয় এমন ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যান্সারে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি সবসময় একটি স্টেরয়েড (সাধারণত প্রেডনিসোলোন বা প্রেডনিসোন) এবং চলমান টেস্টোস্টেরন কমানোর চিকিৎসার সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রোস্টেট ক্যান্সার কোষ বাড়তে সাধারণত টেস্টোস্টেরনের মতো পুরুষ হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) প্রয়োজন। অ্যাবিরাটেরন CYP17 নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়, যা অণ্ডকোষ, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি ও টিউমার নিজে অ্যান্ড্রোজেন তৈরিতে ব্যবহার করে। এভাবে সব জায়গায় হরমোন তৈরি বন্ধ করে এটি ক্যান্সারকে তার চালিকাশক্তি থেকে বঞ্চিত করে। সঙ্গের স্টেরয়েড কর্টিসলের ঘাটতি পূরণ করে এবং অন্য অ্যাড্রিনাল হরমোনের পরিবর্তনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত স্টেরয়েডের সাথে ঠিক সেভাবে খান। সাধারণত দিনে একবার খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, পানি দিয়ে আস্ত গিলে খেতে হয়। খাবারের সাথে খেলে শোষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেড়ে যায়। স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করবেন না। লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও ফেনোবার্বিটালের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনডিউসার এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- CYP2D6 দ্বারা ভাঙা ঔষধ, যেমন ডেক্সট্রোমেথরফান, মেটোপ্রোলল, ফ্লেকাইনাইড ও কিছু বিষণ্ণতা ও মানসিক রোগের ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- রেডিয়াম-২২৩ এর সাথে ব্যবহার সুপারিশকৃত নয়।
- পটাশিয়াম কমায় এমন ঔষধ, যেমন কিছু মূত্রবর্ধক, খেলে বাড়তি পর্যবেক্ষণ দরকার।
কারা খাবেন না
- অ্যাবিরাটেরন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
- গুরুতর লিভারের রোগ
- নারী, বিশেষ করে যারা গর্ভবতী বা গর্ভধারণ করতে পারেন
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- পা ও পায়ের পাতা ফোলা (তরল জমা)
- রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়া, ফলে পেশি দুর্বলতা বা খিঁচুনি
- উচ্চ রক্তচাপ
- গরম হলকা, ক্লান্তি, গিরায় ব্যথা
- লিভার এনজাইম বৃদ্ধি
- মূত্রনালীর সংক্রমণ, বদহজম, পাতলা পায়খানা
ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব, তীব্র বমিভাব বা পেটের ডান দিকের উপরে ব্যথা (লিভারের ক্ষতির সম্ভাবনা), দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, বুকে ব্যথা, তীব্র পেশি দুর্বলতা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা বেশি ফোলা, অথবা অ্যাড্রিনাল সংকটের লক্ষণ (তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি, বিভ্রান্তি), বিশেষ করে অসুখ বা চাপের সময়, দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যাবিরাটেরন নারীদের জন্য নয় এবং গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী বা গর্ভধারণে সক্ষম নারীরা গ্লাভস ছাড়া ট্যাবলেট ধরবেন না। সঙ্গিনী গর্ভধারণ করতে পারলে চিকিৎসাকালে ও পরের ৩ সপ্তাহ পুরুষদের কন্ডম ও আরেকটি কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে, প্রথম ৩ মাস প্রতি ২ সপ্তাহে এবং পরে প্রতি মাসে লিভার পরীক্ষা করা হয়।
- নিয়মিত রক্তচাপ, পটাশিয়াম ও তরলের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
- হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিউর বা সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হলে সাবধানতা প্রয়োজন।
- অপারেশনের আগে বা সংক্রমণ বা তীব্র চাপের সময় চিকিৎসককে জানান, কারণ স্টেরয়েডের মাত্রা পরিবর্তন লাগতে পারে।
- এটি হাড়ের ঘনত্ব কমাতে পারে; চিকিৎসক ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D বা হাড় রক্ষাকারী চিকিৎসা দিতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ, পটাশিয়াম কমে যাওয়া ও তরল জমার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন; হৃদযন্ত্র ও লিভার পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী হরমোন থেরাপি, অ্যান্ড্রোজেন তৈরি বাধাদানকারী (CYP17 ইনহিবিটর)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আসল প্যাকে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Abiraterone Acetate এর সব ব্র্যান্ড