Acalabrutinib
ব্যবহার
অ্যাকালাব্রুটিনিব একটি লক্ষ্যভিত্তিক ক্যান্সারের ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের কিছু রক্তের ক্যান্সার, যেমন ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া (CLL), স্মল লিম্ফোসাইটিক লিম্ফোমা (SLL) এবং ম্যান্টল সেল লিম্ফোমা (MCL) চিকিৎসায় এককভাবে বা অন্য ক্যান্সারের ঔষধের সাথে ব্যবহৃত হয়। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অনকোলজিস্ট বা হেমাটোলজিস্ট) এটি প্রেসক্রাইব ও তত্ত্বাবধান করেন।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাকালাব্রুটিনিব ব্রুটনস টাইরোসিন কাইনেজ (BTK) নামের একটি এনজাইমকে বাধা দেয়। ক্যান্সার আক্রান্ত B-কোষ (এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা) বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য BTK সংকেতের ওপর নির্ভর করে। এই সংকেত বন্ধ করে অ্যাকালাব্রুটিনিব ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করে এবং সেগুলো ধ্বংস হতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞ যেভাবে প্রেসক্রাইব করেছেন ঠিক সেভাবেই খান। সাধারণত দিনে ২ বার, প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে, খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া মুখে খাওয়া হয়। ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে ফেলুন: খুলবেন, গুঁড়া করবেন বা চিবাবেন না। কোনো ডোজ ৩ ঘণ্টার বেশি দেরি হয়ে গেলে সেটি বাদ দিয়ে পরের ডোজ নিয়মিত সময়ে নিন। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও কিছু HIV ঔষধের মতো শক্তিশালী CYP3A বাধাদানকারী ঔষধ অ্যাকালাব্রুটিনিবের মাত্রা বাড়ায়: সাধারণত এগুলো এড়ানো হয়।
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জন'স ওয়ার্টের মতো শক্তিশালী CYP3A ইনডিউসার এর কার্যকারিতা কমায়।
- অ্যাসিড কমানোর ঔষধ ক্যাপসুলের শোষণ কমাতে পারে: ক্যাপসুলের সাথে ওমিপ্রাজোলের মতো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর এড়িয়ে চলুন, আর ফ্যামোটিডিনের মতো H2 ব্লকার অ্যাকালাব্রুটিনিবের ২ ঘণ্টা পরে নিন।
- ওয়ারফারিন, অ্যাপিক্সাবান বা অ্যাসপিরিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সব ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্যের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যাকালাব্রুটিনিব বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- লিভারের গুরুতর সমস্যা থাকলে (সাধারণত সুপারিশ করা হয় না)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা (প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে), ডায়রিয়া, ক্লান্তি, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথা, ত্বকে কালশিটে, কাশি ও ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির সংক্রমণ। রক্ত পরীক্ষায় শ্বেত কণিকা, লোহিত কণিকা বা প্লেটলেট কম দেখা যেতে পারে। কম দেখা গেলেও গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে মারাত্মক সংক্রমণ, গুরুতর রক্তপাত, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন) ও নতুন ত্বকের ক্যান্সার।
জ্বর বা কাঁপুনি, গুরুতর রক্তপাতের লক্ষণ (কালো পায়খানা, প্রস্রাব বা বমিতে রক্ত, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা রক্তপাত না থামা), দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যাকালাব্রুটিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। যেসব নারী গর্ভধারণ করতে পারেন তাঁদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ১ সপ্তাহ কার্যকর জন্মনিরোধ ব্যবহার করতে হবে, এবং গর্ভধারণ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানাতে হবে। চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর ২ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও চেকআপ প্রয়োজন।
- যেকোনো অপারেশন বা দাঁতের চিকিৎসার আগে চিকিৎসককে জানান: রক্তপাতের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে।
- আগে হেপাটাইটিস B হয়ে থাকলে পর্যবেক্ষণ দরকার, কারণ ভাইরাসটি আবার সক্রিয় হতে পারে।
- রোদ থেকে সুরক্ষা নিন এবং ত্বকে নতুন বা পরিবর্তিত দাগ দেখা দিলে জানান।
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা নেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। বেশি খেয়ে ফেললে পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সাররোধী ঔষধ: ব্রুটনস টাইরোসিন কাইনেজ (BTK) ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, মূল প্যাকেটে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। অব্যবহৃত ঔষধ নিরাপদে নষ্ট করার জন্য ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Acalabrutinib এর সব ব্র্যান্ড