Celecoxib
ব্যবহার
সেলেকক্সিব ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী ঔষধ, যা ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে ব্যবহার হয়:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিসে;
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে;
- অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসে (মেরুদণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ);
- স্বল্পমেয়াদি ব্যথায়, যেমন দাঁতের চিকিৎসা বা ছোট অস্ত্রোপচারের পর, এবং মাসিকের ব্যথায়।
কীভাবে কাজ করে
সেলেকক্সিব একটি কক্স-২ ইনহিবিটর, এক ধরনের এনএসএআইডি (নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ)। এটি কক্স-২ এনজাইমকে বাধা দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে; প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা ও প্রদাহ ঘটায়। পাকস্থলী রক্ষাকারী কক্স-১ এনজাইমে এর প্রভাব কম, তাই পুরনো এনএসএআইডির তুলনায় পাকস্থলীর আলসার কম হয়, তবে ঝুঁকি একেবারে নেই তা নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, অস্টিওআর্থ্রাইটিস: দিনে একবার ২০০ mg, অথবা দিনে দুইবার ১০০ mg।
প্রাপ্তবয়স্ক, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস: দিনে দুইবার ১০০ mg থেকে ২০০ mg।
স্বল্পমেয়াদি ব্যথা ও মাসিকের ব্যথা: ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দিনে ৪০০ mg এর বেশি নয়।
যত কম মাত্রায় কাজ হয় এবং যত কম সময় দরকার, ততটুকুই খান। পানি দিয়ে, খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায় (পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের পরে)। মাঝারি লিভারের সমস্যায় এবং কম ওজনের বয়স্কদের কম মাত্রা লাগতে পারে। শিশু: শুধু বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত তরলকারী, অ্যাসপিরিন এবং অন্য এনএসএআইডি (যেমন আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক): রক্তপাত ও পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি বাড়ে। অন্য এনএসএআইডির সাথে খাবেন না।
- রক্তচাপের ঔষধ (এসিই ইনহিবিটর, এআরবি, প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ): সেলেকক্সিব এদের কাজ কমাতে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক বা পানিশূন্য ব্যক্তিদের।
- লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেট: রক্তে মাত্রা বাড়তে পারে।
- ফ্লুকোনাজল সেলেকক্সিবের মাত্রা বাড়ায়; কম মাত্রা লাগতে পারে।
- এসএসআরআই জাতীয় বিষণ্ণতার ঔষধ ও স্টেরয়েড পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- সেলেকক্সিব বা সালফোনামাইড (সালফা) জাতীয় ঔষধে এলার্জি থাকলে
- অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডি খেয়ে হাঁপানি, চুলকানি বা এলার্জি হয়ে থাকলে
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার বা রক্তক্ষরণ থাকলে
- হার্ট ফেইলিওর, করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক বা পায়ের ধমনী বন্ধ থাকলে
- গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ থাকলে
- হার্টের বাইপাস অস্ত্রোপচারের সময়কার ব্যথায়
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, পেটে গ্যাস, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, গোড়ালি ফোলা, রক্তচাপ বাড়া এবং সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ।
বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া (হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে); কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা রক্তবমি; মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা; ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা র্যাশ; অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে খাবেন না, কারণ এটি শিশুর হৃদপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসব দেরি করাতে পারে। এর আগেও ডাক্তার প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলুন। এনএসএআইডি গর্ভধারণেও বাধা দিতে পারে। বুকের দুধে সামান্য যায়; ডাক্তারের পরামর্শে তবেই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খান।
সতর্কতা
- সব এনএসএআইডির মতো সেলেকক্সিবও হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে।
- উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, আগে পাকস্থলীর আলসার, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে এবং বয়স্কদের বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন; বমি বা ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা হলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- দীর্ঘদিন খেলে ডাক্তার রক্তচাপ, কিডনি ও লিভার পরীক্ষা করতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে ঝিমুনি, বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা এবং কম ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (এনএসএআইডি), নির্বাচিত কক্স-২ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Celecoxib এর সব ব্র্যান্ড