Adagrasib
ব্যবহার
অ্যাডাগ্রাসিব খাওয়ার একটি টার্গেটেড ক্যান্সারের ঔষধ। প্রাপ্তবয়স্কদের অগ্রসর বা ছড়িয়ে পড়া নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যান্সারে এটি ব্যবহৃত হয়, যখন পরীক্ষায় টিউমারে KRAS G12C নামের নির্দিষ্ট জিন পরিবর্তন ধরা পড়ে এবং আগে অন্তত একটি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিছু দেশে একই জিন পরিবর্তনযুক্ত কোলোরেক্টাল ক্যান্সারে সেটুক্সিমাবের সাথেও ব্যবহৃত হয়। শুধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এটি প্রেসক্রাইব করেন।
কীভাবে কাজ করে
KRAS একটি প্রোটিন, যা সুইচের মতো কোষকে বাড়তে সংকেত দেয়। KRAS G12C পরিবর্তনযুক্ত টিউমারে এই সুইচ চালু অবস্থায় আটকে থাকে। অ্যাডাগ্রাসিব এই ত্রুটিপূর্ণ KRAS প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে এটিকে বন্ধ অবস্থায় আটকে দেয়, ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর হয় বা থেমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান। সাধারণত দিনে দুইবার, প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে, খাবারের সাথে বা খালি পেটে ট্যাবলেট খাওয়া হয়। আস্ত গিলে ফেলুন; গুঁড়ো করবেন বা চিবাবেন না। বমি হলে বা ডোজ বাদ পড়লে অতিরিক্ত ডোজ খাবেন না; পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে খান। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসক মাত্রা কমাতে বা চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রাখতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যাডাগ্রাসিব লিভারের CYP3A4 এনজাইম দ্বারা ভাঙে এবং নিজেও এই এনজাইমকে বাধা দেয়। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়র্টের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনডিউসার এবং কীটোকোনাজল বা ক্লারিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী ইনহিবিটর এড়িয়ে চলুন। এটি মিডাজোলাম, সিমভাস্টাটিন, ডিগক্সিন ও কিছু রক্ত পাতলা করার ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে। পর্যবেক্ষণ ছাড়া হৃৎপিণ্ডের QT ইন্টারভাল বাড়ায় এমন ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, হ্যালোপেরিডল, অন্ডানসেট্রন বা মক্সিফ্লক্সাসিন এড়িয়ে চলুন। সব ঔষধ ও সম্পূরকের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যাডাগ্রাসিব বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- দীর্ঘ QT ইন্টারভাল বা ঠিক না করা কম পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন বা এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, পেটব্যথা, ফোলা, শ্বাসকষ্ট, লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন ও রক্তকণিকা কমে যাওয়া। কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হৃৎস্পন্দনের ছন্দের পরিবর্তন (QT দীর্ঘ হওয়া), লিভারের ক্ষতি ও ফুসফুসের প্রদাহ।
তীব্র বা চলতে থাকা ডায়রিয়া বা বমি, অজ্ঞান হওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, গাঢ় প্রস্রাবসহ চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, নতুন বা বাড়তে থাকা কাশি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার আগে গর্ভধারণ পরীক্ষা করানো উচিত এবং চিকিৎসাকালে ও শেষ ডোজের পর অন্তত ১ সপ্তাহ কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ১ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে চিকিৎসক রক্তকণিকা, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা, লবণ (পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) ও ECG পরীক্ষা করবেন। পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর তরল খান এবং পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়া ও বমি নিয়ন্ত্রণের ঔষধ ব্যবহার করুন। শ্বাসের যেকোনো সমস্যা দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পেটের সমস্যা ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দের উপর প্রভাব বাড়তে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; হৃৎপিণ্ড পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, KRAS G12C ইনহিবিটর (টার্গেটেড থেরাপি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আসল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Adagrasib এর সব ব্র্যান্ড