Aloe Vera Extract
ব্যবহার
অ্যালোভেরা নির্যাস অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী) গাছের পাতা থেকে তৈরি। মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ঐতিহ্যগতভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমের অস্বস্তি এবং সাধারণ টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জেল হিসেবে ত্বকে লাগালে এটি ঐতিহ্যগতভাবে হালকা পোড়া, রোদে পোড়া, শুষ্কতা ও জ্বালাভাব প্রশমনে ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহারের বেশিরভাগের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং কোনো রোগ সারাতে এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
কীভাবে কাজ করে
পাতার ভেতরের স্বচ্ছ জেলে পানি, শর্করা (যেমন অ্যাসেম্যানান), ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে, যা ত্বককে আর্দ্র ও শান্ত রাখতে পারে। পাতার খোসার ঠিক নিচের হলুদ স্তরে (অ্যালো ল্যাটেক্স) অ্যালোইনের মতো অ্যানথ্রাকুইনোন থাকে, যা অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং অন্ত্রে পানি টেনে এনে জোলাপের মতো কাজ করে। পণ্যভেদে নির্যাসের শক্তি ও ধরন আলাদা হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ক্যাপসুল বা জুস সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার পানির সাথে খাওয়া হয়। জেল পরিষ্কার ত্বকে দিনে কয়েকবার পাতলা করে লাগানো হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া জোলাপ জাতীয় অ্যালো পণ্য ১ থেকে ২ সপ্তাহের বেশি মুখে খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়া অ্যালো, বিশেষ করে ল্যাটেক্সযুক্ত পণ্য, শরীর থেকে পটাশিয়াম কমিয়ে দিতে পারে এবং ডিগক্সিনের প্রভাব ও ফ্রুসেমাইডের মতো ডাইইউরেটিক বা কর্টিকোস্টেরয়েডজনিত পটাশিয়াম ঘাটতি বাড়াতে পারে। এটি রক্তে শর্করা কমিয়ে ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সময়ে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। অন্য জোলাপের সাথে মেশাবেন না।
কারা খাবেন না
অন্ত্রে বাধা, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ (ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস), অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা অজানা কারণে পেটব্যথা থাকলে অ্যালো মুখে খাবেন না। অ্যালো বা রসুন, পেঁয়াজ, টিউলিপের মতো লিলি পরিবারের গাছে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- পেট কামড়ানো ও ডায়রিয়া, বিশেষ করে ল্যাটেক্সযুক্ত পণ্যে
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে পটাশিয়াম কমে গিয়ে দুর্বলতা বা মাংসপেশিতে টান
- ত্বকে লাগালে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালা
তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অ্যালো মুখে খাবেন না, কারণ অ্যালো ল্যাটেক্স জরায়ুকে উদ্দীপিত করতে পারে এবং এর নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। ত্বকের ছোট জায়গায় অ্যালো জেল সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যালো মুখে খাওয়ানো উচিত নয়। পুরো পাতা বা ল্যাটেক্সযুক্ত পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। কিডনি, লিভার বা হৃদরোগ থাকলে ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। জেল বড় জায়গায় লাগানোর আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করুন, এবং গভীর ক্ষত বা গুরুতর পোড়ায় লাগাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, পানিশূন্যতা ও পটাশিয়াম কমে যাওয়া হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে কোনো শিশু খেয়ে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ প্রস্তুতি (ঐতিহ্যগত জোলাপ ও ত্বক প্রশমনকারী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Aloe Vera Extract এর সব ব্র্যান্ড