Amiodarone Hydrochloride
ব্যবহার
অ্যামিওডারোন হাইড্রোক্লোরাইড হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম বা অ্যারিদমিয়া নিয়ন্ত্রণের ঔষধ। ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া ও ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশনের মতো গুরুতর বা প্রাণঘাতী ছন্দের সমস্যায় এটি ব্যবহার করা হয়। অন্য ঔষধ কাজ না করলে বা উপযুক্ত না হলে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন ও অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটারেও দেওয়া হয়। সাধারণত হাসপাতালে বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটি শুরু করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
হৃৎপিণ্ড বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে নিয়মিত ছন্দে স্পন্দিত হয়। অ্যামিওডারোন এই সংকেতকে ধীর করে এবং প্রতিটি স্পন্দনের পর হৃৎপেশির বিশ্রামের সময় বাড়িয়ে দেয়। ফলে দ্রুত ও অনিয়মিত ছন্দ থেমে স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে। শরীরে এটি ধীরে ধীরে জমা হয়, তাই পূর্ণ ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে এবং বন্ধ করার পরও কয়েক মাস শরীরে থেকে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন এবং ঠিক যেভাবে লিখে দেওয়া হয়েছে সেভাবেই সেবন করতে হবে। সাধারণত প্রথম এক থেকে কয়েক সপ্তাহ বেশি মাত্রায় শুরু করে পরে ছন্দ নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো সবচেয়ে কম মাত্রায় নামিয়ে আনা হয়। ট্যাবলেট খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খাওয়া যায়, তবে প্রতিদিন একই নিয়মে খাবেন। ইনজেকশন হাসপাতালে হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় দেন। নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যামিওডারোন অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এটি ওয়ারফারিন, ডিগক্সিন, সিমভাস্টাটিন ও অন্যান্য স্ট্যাটিন, সাইক্লোস্পোরিন এবং কিছু এইচআইভি ঔষধের মাত্রা ও প্রভাব বাড়াতে পারে। সোফোসবুভির (হেপাটাইটিস সি-এর ঔষধ), বিটা ব্লকার বা কিছু ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের সাথে নিলে হৃৎস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে ধীর হতে পারে। হৃৎছন্দে প্রভাব ফেলে এমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিসাইকোটিক ও অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টের সাথে ঝুঁকি বাড়ে। জাম্বুরা জাতীয় গ্রেপফ্রুটের রস এড়িয়ে চলুন। আপনি যে সব ঔষধ, ভেষজ ও সাপ্লিমেন্ট নেন তা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
পেসমেকার ছাড়া খুব ধীর হৃৎস্পন্দন বা নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট ব্লক থাকলে, অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, অ্যামিওডারোন বা আয়োডিনে অ্যালার্জি থাকলে এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। খুব কম রক্তচাপ বা গুরুতর শ্বাসকষ্টে ইনজেকশন দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, হাত কাঁপা, রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা, দীর্ঘ ব্যবহারে ত্বকে নীলচে ধূসর রং, চোখে সূক্ষ্ম জমা যার ফলে আলোর চারপাশে বলয় দেখা এবং থাইরয়েডের কার্যক্রমে পরিবর্তন। কম হলেও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ফুসফুসে প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি, হাত পায়ের স্নায়ুর সমস্যা এবং হৃৎছন্দের নতুন বা বাড়তি সমস্যা।
নতুন বা বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট বা কাশি, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খুব ধীর বা খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, ঝাপসা দেখা অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাস নিতে কষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যামিওডারোন গর্ভের শিশুর থাইরয়েড ও হৃৎপিণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। গর্ভবতী হলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে চিকিৎসক থাইরয়েড, লিভার, ফুসফুস, চোখ ও হৃৎপিণ্ড (ইসিজি) পরীক্ষা করবেন। কাপড় ও সানস্ক্রিন দিয়ে রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন। কোনো অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেসিয়ার আগে জানান যে আপনি অ্যামিওডারোন খান। বয়স্ক ব্যক্তি এবং হার্ট ফেইলিউর, লিভার বা ফুসফুসের রোগে বিশেষ সতর্কতা দরকার। ঔষধটি দীর্ঘদিন শরীরে থাকে বলে বন্ধ করার পরও কয়েক মাস পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত অ্যামিওডারোনে হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, হার্ট ব্লক ও বিপজ্জনক ছন্দ পরিবর্তন হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (ক্লাস III)।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Amiodarone Hydrochloride এর সব ব্র্যান্ড