Amitriptyline Hydrochloride
ব্যবহার
অ্যামিট্রিপটিলিন বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) এর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। কম মাত্রায় এটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুর ব্যথা (যেমন ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ব্যথা বা হারপিস জোস্টারের পরের ব্যথা), মাইগ্রেন ও টেনশন মাথাব্যথা প্রতিরোধে এবং আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় বহুল ব্যবহৃত।
কীভাবে কাজ করে
এটি মস্তিষ্কের দুটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক, সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়ায়। এতে মন ভালো হয় এবং ব্যথার অনুভূতি কমে। এর শান্ত করার প্রভাবে ঘুমও ভালো হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- বিষণ্ণতা, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ২৫ mg দিনে ২ বা ৩ বার, অথবা রাতে একবারে ৫০ থেকে ৭৫ mg দিয়ে শুরু হয়; প্রয়োজনে ডাক্তার ধীরে ধীরে বাড়ান (হাসপাতালের বাইরে সাধারণত দিনে ১৫০ mg এর বেশি নয়)।
- স্নায়ুর ব্যথা ও মাথাব্যথা প্রতিরোধ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত রাতে ১০ mg, প্রয়োজনে ধীরে ধীরে রাতে ২৫ থেকে ৭৫ mg।
- বয়স্ক: কম মাত্রায় শুরু করা হয়।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
ঘুম ঘুম ভাব হয় বলে সন্ধ্যা বা রাতে খান। পুরো ফল পেতে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
MAO ইনহিবিটর জাতীয় বিষণ্ণতার ঔষধের সাথে, বা সেগুলো বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না। ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, সারট্রালিন, ট্রামাডল বা এ ধরনের ঔষধের সাথে খেলে এর মাত্রা বাড়তে পারে বা সেরোটোনিন সিনড্রোম নামের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। মদ, ঘুমের ঔষধ, অ্যান্টিহিস্টামিন ও কড়া ব্যথানাশক ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায়। হৃৎস্পন্দনের কিছু ঔষধ, অ্যান্টিসাইকোটিক ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক হৃদযন্ত্রে এর প্রভাব বাড়াতে পারে। যত ঔষধ খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ব্লক বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন থাকলে।
- গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
- ম্যানিয়া (বাইপোলার রোগের একটি পর্যায়) বা গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে।
- অ্যামিট্রিপটিলিন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘুম ঘুম ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, চোখে ঝাপসা দেখা, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ওজন বাড়া, ঘাম ও প্রস্রাবে অসুবিধা। প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরে এগুলো প্রায়ই কমে যায়। বুক ধড়ফড়, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, তীব্র বিভ্রান্তি, হঠাৎ চোখে ব্যথা ও ঝাপসা দেখা, প্রস্রাব একেবারে আটকে যাওয়া, বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে খাবেন; প্রসবের কাছাকাছি সময়ে খেলে নবজাতকের সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি উপযুক্ত কিনা ডাক্তার ঠিক করবেন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া, মৃগী, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা বাইপোলার রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। বিশেষ করে কম বয়সীদের চিকিৎসার শুরুতে মন আরও খারাপ হতে পারে, তাই পরিবারের সদস্যরা পরিবর্তন খেয়াল রাখবেন। এতে ঘুম ঘুম ভাব ও টলমল ভাব হতে পারে; প্রভাব না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না, আর বয়স্করা পড়ে যাওয়া থেকে সাবধান থাকবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন খুবই বিপজ্জনক, শিশুর জন্য কয়েকটি ট্যাবলেটও। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি, রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হতে পারে। দেরি না করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Amitriptyline Hydrochloride এর সব ব্র্যান্ড