Ampicillin
ব্যবহার
অ্যাম্পিসিলিন এমন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ব্যবহার হয় যাদের উপর এটি কাজ করে, যেমন বুকের সংক্রমণ (ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া), কান, সাইনাস ও গলার সংক্রমণ, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিছু অন্ত্রের সংক্রমণ এবং ত্বক ও নরম টিস্যুর কিছু সংক্রমণ। মেনিনজাইটিস, রক্তের সংক্রমণ (সেপ্টিসেমিয়া) ও প্রসবকালীন সংক্রমণের মতো গুরুতর অসুখে হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়। অনেক ব্যাকটেরিয়া এখন এই ঔষধে প্রতিরোধী, তাই এটি ঠিক অ্যান্টিবায়োটিক কি না তা ডাক্তারই ঠিক করবেন।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাম্পিসিলিন একটি পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, ক্যাপসুল: সাধারণত ৬ ঘণ্টা পরপর ৫০০ mg; সংক্রমণ অনুযায়ী ডাক্তার ৬ ঘণ্টা পরপর ২৫০ mg থেকে ১ g দিতে পারেন।
- শিশু, সাসপেনশন বা পেডিয়াট্রিক ড্রপ: বয়স ও ওজন অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শে।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স দেবেন।
খালি পেটে, খাবারের ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে খান, দিনের মধ্যে সমান বিরতিতে। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। সাসপেনশন ভালো করে ঝাঁকিয়ে সাথে দেওয়া চামচ বা ড্রপার দিয়ে মেপে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালোপুরিনলের সাথে র্যাশের সম্ভাবনা বাড়ে। অ্যাম্পিসিলিন মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা ও ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। প্রোবেনেসিড অ্যাম্পিসিলিনের মাত্রা বাড়ায়। টেট্রাসাইক্লিন, ক্লোর্যামফেনিকল ও ইরিথ্রোমাইসিন এর কাজ কমাতে পারে। খাওয়ার টাইফয়েড টিকা কম কার্যকর হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার সময় বমি বা পাতলা পায়খানা হলে বাড়তি সুরক্ষা নিন।
কারা খাবেন না
- অ্যাম্পিসিলিন বা যেকোনো পেনিসিলিনে এলার্জি
- আগে সেফালোস্পোরিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে গুরুতর এলার্জি হয়ে থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, বমি, ত্বকে র্যাশ এবং মুখ বা যোনিতে থ্রাশ (ইস্ট সংক্রমণ)। গ্ল্যান্ডুলার জ্বরে (ইনফেকশাস মোনোনিউক্লিওসিস) আক্রান্তদের র্যাশ খুব বেশি হয়।
মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, চাকা চাকা ফোলা বা অজ্ঞান হওয়া (তীব্র এলার্জি); ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া; কোর্স শেষের কয়েক সপ্তাহ পরেও তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; অথবা খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভাবস্থায় অ্যাম্পিসিলিন সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর পাতলা পায়খানা, থ্রাশ বা র্যাশ হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- গ্ল্যান্ডুলার জ্বর, কিডনির রোগ (মাত্রা কমাতে হতে পারে), অথবা গুরুতর এলার্জি বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- দীর্ঘ কোর্সে রক্ত, কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা লাগতে পারে।
- সাসপেনশনে চিনি থাকতে পারে; ডায়াবেটিস রোগীরা এটি মাথায় রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনি অকার্যকর হলে, খিঁচুনি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যামিনোপেনিসিলিন)।
সংরক্ষণ
ক্যাপসুল ও শুকনো পাউডার ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পানি মেশানোর পর সাসপেনশন বা ড্রপ লেবেলের নির্দেশমতো (সাধারণত রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C) রাখুন এবং ৭ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন; বাকি অংশ ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Ampicillin এর সব ব্র্যান্ড