Galantamine
ব্যবহার
গ্যালান্টামিন একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের হালকা থেকে মাঝারি তীব্র আলজেইমার্স ধরনের ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রংশ) উপসর্গের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতি, চিন্তাশক্তি ও দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতায় সাহায্য করতে পারে, তবে রোগ সারায় না বা এর অগ্রগতি থামায় না।
কীভাবে কাজ করে
আলজেইমার্স রোগে অ্যাসিটাইলকোলিনের ঘাটতি হয়, যা স্মৃতি ও শেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক। গ্যালান্টামিন অ্যাসিটাইলকোলিনেস্টারেজ নামের এনজাইম আটকে দেয়, যা অ্যাসিটাইলকোলিন ভেঙে ফেলে; ফলে মস্তিষ্কে এটি বেশি পরিমাণে থাকে। এটি অ্যাসিটাইলকোলিনের প্রতি নিকোটিনিক রিসেপ্টরের সাড়াও বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। সাধারণ ট্যাবলেটে চিকিৎসা সাধারণত সকাল ও রাতের খাবারের সাথে দিনে দুইবার ৪ mg দিয়ে চার সপ্তাহ শুরু করা হয়, তারপর দিনে দুইবার ৮ mg করা হয়; অন্তত আরও চার সপ্তাহ পর চিকিৎসক এটি দিনে দুইবার ১২ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। দিনে একবারের এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ক্যাপসুলে সাধারণ শুরু সকালে খাবারের সাথে দিনে একবার ৮ mg, যা চিকিৎসক ধাপে ধাপে বাড়ান। প্রচুর পানি পান করুন। কয়েক দিনের বেশি ঔষধ বন্ধ থাকলে চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে আগের মাত্রায় আবার শুরু করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্যারোক্সেটিন, ফ্লুওক্সেটিন, কিটোকোনাজোল, ইরিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভির গ্যালান্টামিনের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- বিটা-ব্লকার, ডিগক্সিন, ডিলটিয়াজেম ও ভেরাপামিল হৃৎস্পন্দন আরও ধীর করতে পারে।
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ (যেমন কিছু মূত্রথলির, যাত্রাকালীন বমির বা পুরোনো অ্যালার্জির ঔষধ) এর কাজের বিপরীতে কাজ করে।
- আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID পাকস্থলীতে আলসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- অবেদনে ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী ঔষধ (যেমন সাক্সামেথোনিয়াম): গ্যালান্টামিন খাচ্ছেন তা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে।
- গুরুতর কিডনির রোগ থাকলে।
- গ্যালান্টামিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বেশিরভাগ শুরুতে বা মাত্রা বাড়ানোর পরে, হলো বমিভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমা, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব, মন খারাপ লাগা ও ধীর হৃৎস্পন্দন।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হলে, বুকে ব্যথা, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, খিঁচুনি, প্রস্রাবে অসুবিধা, অথবা ফোসকা বা চামড়া ওঠাসহ তীব্র র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্পষ্ট প্রয়োজন ছাড়া গর্ভাবস্থায় সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- হৃৎছন্দের সমস্যা, হাঁপানি বা COPD, পাকস্থলীতে আলসার, খিঁচুনি, সাম্প্রতিক অন্ত্র বা মূত্রথলির অস্ত্রোপচার, বা প্রস্রাব আটকে থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- রোগীর ওজন নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
- মাথা ঘোরা বা ঘুম ঘুম ভাব গাড়ি চালানোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়া নিশ্চিত করতে একজন পরিচর্যাকারীর সাহায্য করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র বমিভাব ও বমি, ঘাম, লালা ঝরা, পেট মোচড়ানো, পেশির দুর্বলতা বা কাঁপুনি, ধীর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ কমে যাওয়া, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডিমেনশিয়ারোধী ঔষধ, অ্যাসিটাইলকোলিনেস্টারেজ ইনহিবিটর
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Galantamine এর সব ব্র্যান্ড