Trimethoprim
ব্যবহার
- মূত্রনালির সংক্রমণ, যেমন সিস্টাইটিস (মূত্রথলির সংক্রমণ)।
- বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে, দীর্ঘদিন কম মাত্রায়।
- সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত বুকের কিছু সংক্রমণ।
আরও বেশি ধরনের সংক্রমণের জন্য এটি সালফামেথক্সাজলের সাথে মিলিয়েও দেওয়া হয়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
ট্রাইমেথোপ্রিম একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়ার ফলিক এসিড তৈরির একটি এনজাইম আটকে দেয়। ফলিক এসিড ছাড়া ব্যাকটেরিয়া নতুন জিনগত উপাদান বানাতে পারে না, তাই বংশবৃদ্ধি থেমে যায় এবং শরীর সংক্রমণ দূর করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মূত্রনালির সংক্রমণ (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ২০০ mg দিনে ২ বার; নারীদের সাধারণ সিস্টাইটিসে ৩ দিন, পুরুষদের ও জটিল ক্ষেত্রে ৭ দিন, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
- বারবার সংক্রমণ প্রতিরোধ (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে দিনে একবার ১০০ mg।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশে।
খাবারের আগে বা পরে এক গ্লাস পানির সাথে খান। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেথোট্রেক্সেট ও পাইরিমেথামিন: ফলিক এসিডের ঘাটতিতে রক্তের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- এনালাপ্রিল, লোসার্টান, স্পাইরোনোল্যাকটোন ও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো পটাশিয়াম বাড়ায় এমন ঔষধ: পটাশিয়াম অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে।
- ফেনিটোইন ও ডিগক্সিনের মাত্রা এবং ওয়ারফারিনের কাজ বাড়াতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন: কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- ট্রাইমেথোপ্রিমে এলার্জি থাকলে।
- ফলিক এসিডের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতায় (মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া)।
- রক্তের গুরুতর রোগে।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে, যদি রক্তে ঔষধের মাত্রা পরীক্ষা করা সম্ভব না হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, চুলকানি, র্যাশ, মাথাব্যথা এবং রক্তে পটাশিয়াম বাড়া।
ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘাসহ ছড়ানো র্যাশ; জ্বর, গলাব্যথা, মুখে ঘা, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত (রক্তের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে); তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া; পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন (পটাশিয়াম বেশি হওয়ার লক্ষণ হতে পারে); অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে সাধারণত এটি এড়ানো হয়, কারণ এটি শিশুর প্রয়োজনীয় ফলিক এসিডের বিরুদ্ধে কাজ করে। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে বাড়তি ফলিক এসিড দিতে পারেন। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; অল্প দিনের কোর্স দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত গ্রহণযোগ্য।
সতর্কতা
- বয়স্ক, অপুষ্টিতে ভোগা এবং দীর্ঘদিন খাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ফলিক এসিডের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি; রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- কিডনির রোগে মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- পরফাইরিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কয়েক দিনে প্রস্রাবের উপসর্গ না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও বিভ্রান্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি খেলে অস্থিমজ্জার ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসা নিন; ডাক্তার ফলিনিক এসিড দিতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (ফোলেট প্রতিরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Trimethoprim এর সব ব্র্যান্ড