Atomoxetine
ব্যবহার
অ্যাটোমক্সেটিন একটি নন-স্টিমুলেন্ট ঔষধ, যা ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের এডিএইচডি (মনোযোগের ঘাটতি ও অতিচঞ্চলতা) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এডিএইচডিতে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা, অস্থিরতা ও না ভেবে কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। আচরণগত, শিক্ষাগত ও সামাজিক সহায়তাসহ পূর্ণ চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাটোমক্সেটিন মস্তিষ্কের রাসায়নিক বার্তাবাহক নরঅ্যাড্রেনালিনের পুনঃশোষণ বন্ধ করে। এতে মস্তিষ্কের সামনের অংশে নরঅ্যাড্রেনালিন ও ডোপামিন বাড়ে, যা মনোযোগ বাড়াতে এবং আবেগপ্রবণ ও অতিচঞ্চল আচরণ কমাতে সাহায্য করে। স্টিমুলেন্ট ঔষধের মতো এটি আসক্তি তৈরি করে না। পূর্ণ ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন; শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন অনুযায়ী এবং ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই খান। সাধারণত দিনে ১ বার সকালে, অথবা পেটের অস্বস্তি বা ঘুমভাব হলে দুই ভাগে (সকাল ও বিকেল) খাওয়া হয়। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ক্যাপসুল আস্ত গিলে খান; খুলবেন না, কারণ পাউডার চোখে জ্বালা করে। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- MAO ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড): একসাথে বা ২ সপ্তাহের ব্যবধানে খাওয়া যাবে না।
- ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, কুইনিডিন ও বুপ্রোপিয়ন: অ্যাটোমক্সেটিনের মাত্রা বাড়ায়, কম মাত্রা লাগতে পারে।
- সালবিউটামল ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ও অন্যান্য বিটা অ্যাগোনিস্ট: হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়তে পারে।
- রক্তচাপ বাড়ায় বা হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (যেমন নাক খোলার ঔষধ, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, মেথাডন বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক)।
কারা খাবেন না
অ্যাটোমক্সেটিনে অ্যালার্জি, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার (ফিওক্রোমোসাইটোমা), এমন গুরুতর হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস যেখানে রক্তচাপ বাড়া বিপজ্জনক, অথবা গত ২ সপ্তাহে MAO ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ক্ষুধামন্দা, পেটে ব্যথা, বমিভাব, বমি।
- মাথাব্যথা, ঘুমভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি।
- মেজাজের ওঠানামা, খিটখিটে মেজাজ।
- হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
- প্রাপ্তবয়স্কদের: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, প্রস্রাবে অসুবিধা, যৌন সমস্যা।
- কিছু শিশুর বৃদ্ধি বা ওজন বাড়া ধীর হওয়া।
আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, নতুন বা বেড়ে যাওয়া আক্রমণাত্মক আচরণ, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, গাঢ় প্রস্রাব, পেটে ব্যথাসহ ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া (লিভারের ক্ষতির লক্ষণ), ৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান, খিঁচুনি বা তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তথ্য সীমিত। গর্ভবতী হলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে বা দুধ খাওয়ালে ডাক্তারকে জানান; উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
অ্যাটোমক্সেটিন খাওয়া শিশু ও কিশোরদের আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি সামান্য বাড়ে, বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাসে বা মাত্রা বদলানোর পর, তাই পরিবারকে মেজাজ ও আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে হবে। নিয়মিত হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, উচ্চতা ও ওজন পরীক্ষা করা উচিত। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের রোগ, খিঁচুনি, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, বিষণ্ণতা বা পরিবারে হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। সতর্কতা কমাতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে ঘুমভাব, অস্থিরতা, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, পেটের গোলমাল এবং কদাচিৎ খিঁচুনি বা হৃৎস্পন্দনের ছন্দে পরিবর্তন হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিলেক্টিভ নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর (নন-স্টিমুলেন্ট এডিএইচডি ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Atomoxetine এর সব ব্র্যান্ড