Bleomycin
ব্যবহার
ব্লিওমাইসিন একটি ক্যান্সারবিরোধী অ্যান্টিবায়োটিক, যা সাধারণত অন্য কেমোথেরাপির সাথে হজকিন ও কিছু নন-হজকিন লিম্ফোমা, অণ্ডকোষের (জার্ম সেল) ক্যান্সার এবং মাথা-ঘাড়, ত্বক, জরায়ুমুখ ও অন্যান্য স্থানের স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ক্যান্সারের কারণে ফুসফুসের চারপাশে পানি জমা (ম্যালিগন্যান্ট প্লুরাল ইফিউশন) নিয়ন্ত্রণেও এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ব্লিওমাইসিন ক্যান্সার কোষের DNA এর সাথে যুক্ত হয়ে আয়রন ও অক্সিজেনের সাহায্যে DNA সুতোয় ভাঙন ঘটায়। এতে কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে কোষ মারা যায়। অনেক কেমোথেরাপির তুলনায় এটি অস্থিমজ্জার উপর কম প্রভাব ফেলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্লিওমাইসিন শুধু হাসপাতালে কেমোথেরাপিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা নার্স শিরা, মাংসপেশি বা চামড়ার নিচে ইনজেকশন অথবা বুকের গহ্বরে দেন। ক্যান্সারের ধরন, শরীরের আকার, কিডনির কার্যকারিতা ও আজীবনে মোট কত মাত্রা পেয়েছেন তা দেখে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ মাত্রা ও সময়সূচি ঠিক করেন। লিম্ফোমা রোগীদের আগে একটি ছোট পরীক্ষামূলক মাত্রা দেওয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিসপ্লাটিন ও কিডনির ক্ষতি করে এমন অন্য ঔষধ ব্লিওমাইসিনের নিঃসরণ কমিয়ে বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- চিকিৎসার সময় বা পরে (যেমন অপারেশনের সময়) উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়: প্রত্যেক অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান যে আপনি ব্লিওমাইসিন পেয়েছেন।
- বুকে রেডিয়েশন ও ব্রেন্টুক্সিমাবের মতো অন্য কেমোথেরাপি ফুসফুসের বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- এটি ফেনিটোইন ও ডিগক্সিনের মাত্রা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- ব্লিওমাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- চিকিৎসকের বিবেচনায় গুরুতর ফুসফুসের রোগ বা ফুসফুসের কার্যকারিতা কম থাকলে।
- অ্যাটাক্সিয়া টেলাঞ্জিওক্টেসিয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চিকিৎসার দিন জ্বর ও কাঁপুনি, ত্বক কালো হওয়া, মোটা হওয়া বা উঠে যাওয়া, নখের পরিবর্তন, চুল পড়া, মুখে ঘা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমা সাধারণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুরুতর ঝুঁকি হলো ফুসফুসের প্রদাহ ও দাগ পড়া (নিউমোনাইটিস ও ফাইব্রোসিস), যা মোট মাত্রা বেশি হলে, বয়স্ক, কিডনির রোগ ও ধূমপানে বেশি হয়।
নতুন বা বাড়তে থাকা কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা, মাত্রার পরপরই বিভ্রান্তি বা রক্তচাপ কমাসহ উচ্চ জ্বর, শোঁ শোঁ শব্দ বা মুখ ফুলে যাওয়া, অথবা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ব্লিওমাইসিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং পরে চিকিৎসকের বলা সময় পর্যন্ত নারী ও পুরুষ উভয়কে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা ও বুক পরীক্ষা করা হয়।
- ধূমপান ছাড়ুন; অপ্রয়োজনীয় উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন এড়িয়ে চলুন।
- কিডনির কার্যকারিতা দেখা হয়, কম হলে মাত্রা কমানো হয়।
- কর্মী ও সেবাদানকারীদের জন্য কেমোথেরাপি নাড়াচাড়ার সতর্কতা প্রযোজ্য।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি মাত্রায় গুরুতর ফুসফুসের ক্ষতি, জ্বর ও ত্বকের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, সাইটোটক্সিক অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
খোলা হয়নি এমন ভায়াল ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না। হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Bleomycin এর সব ব্র্যান্ড