Cabozantinib
ব্যবহার
ক্যাবোজান্টিনিব একটি ক্যান্সারের ঔষধ। এটি ব্যবহার হয়:
- অগ্রসর কিডনি ক্যান্সারে (রেনাল সেল কার্সিনোমা), একা বা নিভোলুমাবের সাথে।
- লিভার ক্যান্সারে (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা), যাদের আগে সোরাফেনিব দিয়ে চিকিৎসা হয়েছে।
- ডিফারেনশিয়েটেড থাইরয়েড ক্যান্সারে, যা আগের চিকিৎসার পরও বাড়ছে।
- মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সারে (ক্যাপসুল রূপে)।
শুধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অনকোলজিস্ট) এটি শুরু করেন ও পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
ক্যাবোজান্টিনিব একটি টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর। অর্থাৎ ক্যান্সার কোষ বেড়ে ওঠা, ছড়িয়ে পড়া ও নতুন রক্তনালী তৈরির জন্য যে কয়েকটি প্রোটিন (যেমন MET, VEGF রিসেপ্টর ও AXL) ব্যবহার করে, এটি সেগুলোকে আটকে দেয়। এতে টিউমারের বৃদ্ধি ধীর হয় বা থেমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অনকোলজিস্ট যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবে খাবেন। ক্যান্সারের ধরন, অন্য ঔষধ ও সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়; পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে বা কিছুদিন বন্ধ রাখতে পারেন।
- সাধারণত দিনে একবার খালি পেটে খেতে হয়: ঔষধের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ও ১ ঘণ্টা পরে কিছু খাবেন না।
- এক গ্লাস পানি দিয়ে পুরোটা গিলে খান; গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না।
- ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল একটির বদলে আরেকটি চলে না, তাই নিজে থেকে বদলাবেন না।
- চিকিৎসার সময় জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) বা এর রস খাবেন না।
- একটি ডোজ বাদ পড়লে এবং পরের ডোজের ১২ ঘণ্টারও কম বাকি থাকলে বাদ পড়া ডোজটি আর খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভিরের মতো ঔষধ এর মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- জাম্বুরা এর মাত্রা বাড়ায়।
- রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে ডাক্তারকে জানান, কারণ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
যে কোনো ঔষধ, ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট খেলে ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে অবশ্যই জানান।
কারা খাবেন না
- ক্যাবোজান্টিনিব বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, ওজন কমা, মুখে ঘা, স্বাদ বা গলার স্বর বদলে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের কাজ কমে যাওয়া, এবং হাত-পায়ের ত্বকের প্রতিক্রিয়া (হাতের তালু ও পায়ের তলা লাল হওয়া, ব্যথা, ফোলা বা চামড়া উঠে যাওয়া)।
নিচের যে কোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- রক্তবমি, কাশির সাথে রক্ত, কালো বা রক্তমাখা পায়খানা, বা অন্য কোনো গুরুতর রক্তপাত।
- পেটে তীব্র ব্যথা, যা অন্ত্র ফুটো হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
- বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বা হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা চোখে দেখতে না পাওয়া।
- তীব্র মাথাব্যথার সাথে বিভ্রান্তি, দৃষ্টির সমস্যা বা খিঁচুনি।
- তীব্র ডায়রিয়ার সাথে পানিশূন্যতার লক্ষণ।
- চোয়ালে ব্যথা, দাঁত নড়ে যাওয়া বা মুখের ভেতরের ঘা না শুকানো।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ক্যাবোজান্টিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীরা চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৪ মাস কার্যকর জন্মনিরোধক ব্যবহার করবেন। চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর ৪ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তচাপ, লিভারের পরীক্ষা, প্রস্রাবে প্রোটিন ও থাইরয়েড পরীক্ষা করা হয়।
- এটি ক্ষত শুকাতে দেরি করায়; পরিকল্পিত অপারেশনের (দাঁতের অপারেশনসহ) সাধারণত অন্তত ৩ সপ্তাহ আগে এটি বন্ধ রাখা হয়।
- শুরু করার আগে দাঁত পরীক্ষা করিয়ে নিন, কারণ বিরল ক্ষেত্রে চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি (অস্টিওনেক্রোসিস) হতে পারে।
- লিভারের রোগ, রক্তপাতের সমস্যা, সাম্প্রতিক অপারেশন বা হৃদরোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। বেশি খেয়ে ফেললে সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ; টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল প্যাকেটেই রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Cabozantinib এর সব ব্র্যান্ড