Carboplatin
ব্যবহার
কার্বোপ্লাটিন একটি ক্যান্সার-বিরোধী (কেমোথেরাপি) ঔষধ। এটি মূলত ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সারে (স্মল সেল ও নন-স্মল সেল দুটোই) ব্যবহার হয়। মাথা ও গলা, মূত্রথলি, জরায়ুমুখ, অণ্ডকোষের ক্যান্সার এবং শিশুদের কিছু ক্যান্সারেও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এটি দিতে পারেন। প্রায়ই প্যাক্লিট্যাক্সেল, জেমসিটাবিন বা ইটোপোসাইডের মতো অন্য ঔষধের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
কার্বোপ্লাটিন একটি প্লাটিনামযুক্ত যৌগ। এটি কোষের ভেতরের ডিএনএ (জিনগত উপাদান) এর সাথে যুক্ত হয়ে এর সুতাগুলো জুড়ে দেয়, ফলে কোষ ডিএনএ কপি করতে বা বিভাজিত হতে পারে না। দ্রুত বিভাজিত কোষ, যেমন ক্যান্সার কোষ, বেশি আক্রান্ত হয়, তবে অস্থিমজ্জার মতো কিছু সুস্থ কোষও প্রভাবিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কার্বোপ্লাটিন শুধু হাসপাতাল বা ক্যান্সার সেন্টারে ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে (ইনফিউশন) দেন, সাধারণত ১৫ থেকে ৬০ মিনিট ধরে। প্রত্যেকের মাত্রা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ মূলত কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্তকণিকার সংখ্যা দেখে ঠিক করেন, এবং নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর পর চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রতিটি সাইকেলের আগে রক্ত পরীক্ষা হয়; রক্তকণিকা কম থাকলে মাত্রা পিছিয়ে বা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। বমি ঠেকাতে সাধারণত ইনফিউশনের আগে ঔষধ দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সব ঔষধ, ভেষজ পণ্য ও টিকার কথা ক্যান্সার চিকিৎসক দলকে জানান। অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন জেন্টামাইসিন বা অ্যামিকাসিন), ভ্যানকোমাইসিন ও লুপ ডাইইউরেটিক (যেমন ফুরোসেমাইড) কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্য ক্যান্সারের ঔষধ ও রেডিওথেরাপি অস্থিমজ্জার ওপর প্রভাব বাড়ায়। কার্বোপ্লাটিন ফেনিটোইনের মাত্রা কমাতে এবং ওয়ারফারিনের কাজ বদলে দিতে পারে। চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা (লাইভ ভ্যাকসিন) নেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
- কার্বোপ্লাটিন বা অন্য প্লাটিনাম ঔষধে (যেমন সিসপ্লাটিন) গুরুতর এলার্জি।
- অস্থিমজ্জার কাজ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া (রক্তকণিকা খুব কম)।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা।
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: রক্তকণিকা কমে যাওয়া (ফলে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ ও রক্তস্বল্পতাজনিত ক্লান্তির ঝুঁকি), বমি বমি ভাব ও বমি, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি, চুল পাতলা হওয়া, স্বাদের পরিবর্তন, হাত-পায়ে ঝিনঝিন, কানে শব্দ হওয়া বা শোনার পরিবর্তন, এবং রক্তে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম বা সোডিয়াম কমে যাওয়া। ইনফিউশনের সময় এলার্জি হতে পারে, বিশেষ করে কয়েকটি সাইকেলের পর।
শরীরের তাপমাত্রা 38°C বা বেশি হলে, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কালশিটে, কালো পায়খানা বা প্রস্রাবে রক্ত, ইনফিউশনের সময় বা পরে র্যাশ, ফোলা, বুকে চাপ বা শ্বাসকষ্ট, এমন বমি যে পানিও রাখা যাচ্ছে না, অথবা প্রস্রাব খুব কম হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন বা সাথে সাথে ক্যান্সার চিকিৎসক দলের সাথে যোগাযোগ করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কার্বোপ্লাটিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং পরের কয়েক মাস নারীরা গর্ভধারণ করবেন না এবং পুরুষরা সন্তান নেবেন না; চিকিৎসক দলের পরামর্শমতো নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, কিডনি পরীক্ষা ও রক্তের লবণের মাত্রা দেখা প্রয়োজন। বয়স্ক ও আগে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের রক্তকণিকা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিডনি বা শ্রবণের সমস্যা, অথবা আগে প্লাটিনাম ঔষধে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে চিকিৎসক দলকে জানান। যতটা সম্ভব সংক্রমিত মানুষ থেকে দূরে থাকুন, বারবার হাত ধুয়ে নিন এবং জীবন্ত টিকা নেবেন না। দাঁতের ডাক্তার বা অন্য ডাক্তারকে জানান যে আপনি কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়া বিরল। বেশি হলে অস্থিমজ্জার কাজ মারাত্মকভাবে কমে যেতে এবং কিডনি, লিভার ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই; হাসপাতালের দল সহায়ক চিকিৎসা দেন এবং রক্তকণিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক (ক্যান্সার-বিরোধী ঔষধ), প্লাটিনাম যৌগ।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ফার্মেসি ভায়ালগুলো 25°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, মূল কার্টনে রাখে, বা লিফলেটে যেমন বলা আছে। লিফলেটে না বললে ফ্রিজে রাখবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Carboplatin এর সব ব্র্যান্ড