Ciclesonide
ব্যবহার
সিক্লেসোনাইড একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা দুই আকারে ব্যবহৃত হয়। নাকের স্প্রে হিসেবে এটি মৌসুমি ও সারাবছরের অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গ যেমন নাক বন্ধ বা পানি পড়া, হাঁচি ও চুলকানি কমায়। ইনহেলার হিসেবে এটি প্রতিদিন ব্যবহার করে হাঁপানির উপসর্গ ও আক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। এটি প্রিভেন্টার, হাঁপানির টানের সময় দ্রুত আরাম দেয় না।
কীভাবে কাজ করে
সিক্লেসোনাইড একটি নিষ্ক্রিয় রূপ (প্রোড্রাগ), যা নাক বা ফুসফুসের ভেতরে সক্রিয় রূপে পরিণত হয়। সেখানে এটি অ্যালার্জি ও হাঁপানিতে জড়িত রোগপ্রতিরোধী কোষ ও রাসায়নিককে শান্ত করে আস্তরণের ফোলা ও জ্বালাপোড়া কমায়। এটি মূলত প্রয়োগের জায়গায় কাজ করে এবং শরীরের বাকি অংশে খুব কম পৌঁছায়, তাই অন্যত্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। পূর্ণ ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নাকের স্প্রে, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী: সাধারণত প্রতি নাকে ২ স্প্রে দিনে একবার, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। আলতো ঝাঁকিয়ে প্রথম ব্যবহারের আগে প্রাইম করুন এবং নোজল নাকের মাঝখান থেকে সামান্য দূরে তাক করুন। হাঁপানির ইনহেলার: সাধারণত দিনে একবার ৮০ থেকে ১৬০ মাইক্রোগ্রাম, চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করবেন; ভালো থাকলেও প্রতিদিন ব্যবহার করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশমতো। হঠাৎ উপসর্গের জন্য সাথে রিলিভার ইনহেলার রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, রিটোনাভির ও কোবিসিস্টাটের মতো লিভারের এনজাইম বাধাদানকারী ঔষধ শরীরে স্টেরয়েডের মাত্রা বাড়াতে পারে। একই সময়ে অন্য স্টেরয়েড (ট্যাবলেট, ক্রিম, ইনহেলার) ব্যবহার করলে মোট স্টেরয়েডের পরিমাণ বাড়ে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
সিক্লেসোনাইডে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। হঠাৎ হাঁপানির টান সারাতে ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে না। নাকের অস্ত্রোপচার বা আঘাতের পরপর, অথবা চিকিৎসাহীন নাকের সংক্রমণে, সেরে ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নাকের স্প্রে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নাকের স্প্রে: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, নাকে জ্বালা বা শুষ্কতা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা। ইনহেলার: গলা বসে যাওয়া, গলা ব্যথা, মুখে জ্বালা এবং কম ক্ষেত্রে মুখে ছত্রাক সংক্রমণ। দীর্ঘ ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া, চোখের চাপ বাড়া, ছানি বা নাকের পর্দায় ছিদ্রের মতো স্টেরয়েডের প্রভাব হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে বা ইনহেলার নেওয়ার পরপরই শোঁ শোঁ শব্দ হলে, রিলিভারে কাজ না হলে, দৃষ্টির পরিবর্তন হলে অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সিক্লেসোনাইডের তথ্য কম। গর্ভাবস্থায় হাঁপানি ও অ্যালার্জি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি, তাই চিকিৎসক উপযুক্ত স্টেরয়েড বেছে দেবেন। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
ভালো ফলের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুন। ইনহেলার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করুন। যক্ষ্মা, চিকিৎসাহীন সংক্রমণ, গ্লুকোমা বা ছানি থাকলে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘদিন স্টেরয়েড নেওয়া শিশুদের উচ্চতা পরীক্ষা করা উচিত। স্টেরয়েড ট্যাবলেট থেকে পরিবর্তন করলে চিকিৎসক ধীরে ধীরে ট্যাবলেট কমাবেন। পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি মাত্রায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন নির্ধারিত মাত্রার অনেক বেশি ব্যবহার করলে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কাজ কমে যাওয়ার মতো স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (ইনহেলড ও নাকে ব্যবহারযোগ্য)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ইনহেলারের ক্যানিস্টার খালি হলেও ফুটো করবেন না বা পোড়াবেন না। নাকের স্প্রের ঢাকনা লাগিয়ে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Ciclesonide এর সব ব্র্যান্ড