Citric Acid Monohydrate
ব্যবহার
সাইট্রিক এসিড মনোহাইড্রেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পটাশিয়াম সাইট্রেটের সাথে মুখে খাওয়ার দ্রবণ হিসেবে ব্যবহার হয়। এই মিশ্রণ প্রস্রাবের অম্লতা কমায়। হালকা মূত্রথলির প্রদাহে (সিস্টাইটিস) প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি কমাতে এবং কিছু কিডনি পাথর (ইউরিক এসিড ও ক্যালসিয়ামের পাথর) প্রতিরোধে ডাক্তার এটি দেন। কিছু লিংটাস ও সিরাপেও এটি থাকে, যেখানে শুকনো খুসখুসে কাশিতে আরামদায়ক ও সুস্বাদু ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে
সাইট্রেট শরীরে শোষিত হয়ে বাইকার্বোনেটে পরিণত হয়, যা প্রস্রাবের অম্লতা কমায়। প্রস্রাবে সাইট্রেট বাড়লে স্ফটিক জমে পাথর হওয়াও কমে। কাশির লিংটাসে সিরাপটি গলায় প্রলেপ দিয়ে আরাম দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- পটাশিয়াম সাইট্রেট ও সাইট্রিক এসিড দ্রবণ, প্রাপ্তবয়স্ক: প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন; সাধারণত ১০ ml এক গ্লাস পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিনে তিনবার খাবারের পরে।
- সিস্টাইটিসের উপসর্গ ২ দিনের মধ্যে না কমলে ডাক্তার দেখান।
- কিডনি পাথর প্রতিরোধে: ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- লিংটাস, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫ ml দিনে তিন বা চারবার।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, এনালাপ্রিল, র্যামিপ্রিল, লোসারটান ও শরীরে পটাশিয়াম ধরে রাখে এমন অন্য ঔষধ: পটাশিয়াম সাইট্রেটযুক্ত মিশ্রণের সাথে রক্তে পটাশিয়াম ক্ষতিকর মাত্রায় বাড়তে পারে।
- মেথেনামিন অম্লীয় প্রস্রাবে কাজ করে, তাই এর কাজ কমে যায়।
- অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড: সাইট্রেট অ্যালুমিনিয়াম শোষণ বাড়াতে পারে; আলাদা সময়ে খান।
কারা খাবেন না
- কিডনি অকার্যকর হলে বা রক্তে পটাশিয়াম বেশি থাকলে (পটাশিয়াম সাইট্রেটযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে)।
- অ্যাডিসন রোগ বা তীব্র পানিশূন্যতা থাকলে।
- ইউরিয়া ভাঙে এমন জীবাণুর সংক্রমণে তৈরি পাথরসহ প্রস্রাবের সংক্রমণ থাকলে।
- কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হালকা পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা জোলাপের মতো প্রভাব হতে পারে, বিশেষ করে ভালোভাবে পানিতে না মেশালে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: মাংসপেশির দুর্বলতা, অবশ ভাব, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো পটাশিয়াম বেশি হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়; তীব্র পেটব্যথা বা কালো পায়খানা হয়; জ্বর, কোমরে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত যায়; অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বল্প সময়ের ব্যবহারে সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, তবে গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের সংক্রমণে ডাক্তারের পরীক্ষা ও প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়। গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- কিডনির রোগ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে (সিরাপে চিনি থাকতে পারে) সাবধানে ব্যবহার করুন।
- প্রস্রাবের অম্লতা কমানোর দ্রবণ সবসময় ভালোভাবে পানিতে মিশিয়ে খান।
- এটি শুধু উপসর্গ কমায়, মূত্রথলির সংক্রমণ সারায় না; জ্বর থাকলে বা উপসর্গ না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, আর পটাশিয়াম সাইট্রেটের ক্ষেত্রে রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রস্রাবের অম্লতা কমানোর ঔষধ (ইউরিনারি অ্যালকালাইজার); কাশির লিংটাসের ভিত্তি হিসেবেও ব্যবহার হয়।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রেখে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Citric Acid Monohydrate এর সব ব্র্যান্ড