Amino acids, Glucose & Electrolytes
ব্যবহার
এটি একটি জীবাণুমুক্ত শিরাপথে (IV) দেওয়ার পুষ্টি দ্রবণ, যাতে অ্যামিনো অ্যাসিড (প্রোটিনের গঠন উপাদান), গ্লুকোজ (শক্তির জন্য শর্করা) ও ইলেক্ট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মতো লবণ) একসাথে থাকে। কিছু পণ্যে আলাদা পকেটে চর্বির ইমালশনও থাকে। যেসব রোগী মুখে খেতে পারেন না বা অন্ত্র দিয়ে যথেষ্ট খাবার শোষণ করতে পারেন না, যেমন বড় অস্ত্রোপচারের পর, গুরুতর অসুস্থতা, অন্ত্রের অকার্যকারিতা বা গুরুতর পোড়ায়, তাদের শিরাপথে খাবার (প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন) হিসেবে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
দ্রবণটি সরাসরি রক্তে পুষ্টি পৌঁছে দেয়। অ্যামিনো অ্যাসিড পেশিসহ শরীরের প্রোটিন তৈরি ও মেরামতে, ক্ষত শুকানো ও রোগ প্রতিরোধে কাজে লাগে। গ্লুকোজ শক্তি দেয়, ফলে শরীর নিজের প্রোটিন ভেঙে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে না। ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং স্নায়ু, পেশি ও হৃৎপিণ্ডের কাজে সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স এটি দেন। রোগীর ওজন, শারীরিক অবস্থা, তরলের প্রয়োজন ও রক্ত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পরিমাণ ও গতি হিসাব করে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। একাধিক পকেটের ব্যাগ ব্যবহারের আগে সিল ভেঙে মিশাতে হয়। ঘনত্ব অনুযায়ী এটি বড় কেন্দ্রীয় শিরা বা প্রান্তীয় শিরায় সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরে ধীরে দেওয়া হয়। ভিটামিন ও ট্রেস এলিমেন্ট সাধারণত আলাদাভাবে যোগ করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফার্মেসির নির্দেশনায় শুধু উপযুক্ত উপাদানই ব্যাগে মেশানো উচিত, কারণ কিছু ঔষধ তলানি তৈরি করে বা ইমালশন নষ্ট করে। রক্তে শর্করা বাড়লে ইনসুলিন লাগতে পারে। পটাশিয়াম ধরে রাখা মূত্রবর্ধক, এসিই ইনহিবিটর ও সাইক্লোস্পোরিনের মতো পটাশিয়ামকে প্রভাবিত করে এমন ঔষধে সতর্কতা দরকার। ক্যালসিয়ামযুক্ত দ্রবণের সাথে একই লাইনে সেফট্রিয়াক্সোন দেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের জন্মগত ত্রুটি, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তশর্করা, গুরুতর লিভার বিকলতা বা কোমা, ডায়ালাইসিস ছাড়া গুরুতর কিডনি বিকলতা, শক বা অস্থির রক্তসঞ্চালন, শরীরে অতিরিক্ত তরল, দ্রবণে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট রক্তে আগে থেকেই বেশি থাকলে, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে (চর্বির ইমালশন থাকলে ডিম, সয়া বা মাছের প্রোটিনে অ্যালার্জি) এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে আছে রক্তে শর্করা বেশি বা কম হওয়া, ইলেক্ট্রোলাইট ও তরলের ভারসাম্যহীনতা, বমি বমি ভাব, জ্বর, শিরায় জ্বালা বা প্রদাহ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে লিভারের পরিবর্তন। IV লাইনে সংক্রমণ একটি গুরুতর ঝুঁকি। গুরুতর অপুষ্ট রোগীদের খাওয়ানো শুরু করলে রিফিডিং সিনড্রোম (ফসফেট, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের বিপজ্জনক পরিবর্তন) হতে পারে।
জ্বর বা কাঁপুনি, স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা, লাল ভাব বা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, র্যাশ, বিভ্রান্তি বা পা ফোলা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান, কারণ এগুলোর জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক শিরাপথে পুষ্টি প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে এটি দেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
- রক্তের শর্করা, ইলেক্ট্রোলাইট, তরলের ভারসাম্য, কিডনি ও লিভারের কাজ এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।
- অপুষ্ট রোগীদের রিফিডিং সিনড্রোম এড়াতে ধীরে শুরু করতে হয়।
- IV লাইনের জন্য কঠোর জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি প্রয়োজন।
- হার্ট ফেইলিওর, কিডনি বা লিভারের রোগ ও ডায়াবেটিসে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- দ্রবণ স্বচ্ছ (চর্বি থাকলে সমানভাবে দুধের মতো) এবং ব্যাগ অক্ষত থাকলেই ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত বা খুব দ্রুত দিলে শরীরে তরল জমা, রক্তে শর্করা বাড়া, ইলেক্ট্রোলাইটের গরমিল, বমি বমি ভাব, বমি, কাঁপুনি ও অ্যাসিডোসিস হতে পারে। ইনফিউশন বন্ধ বা ধীর করে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন দ্রবণ (গ্লুকোজ ও ইলেক্ট্রোলাইটসহ অ্যামিনো অ্যাসিড)
সংরক্ষণ
প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত ২৫°C এর নিচে রাখুন, জমাবেন না এবং আলো থেকে রক্ষার জন্য বাইরের মোড়কে রাখুন। মিশানো ও উপাদান যোগ করার পর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করুন। শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Amino acids, Glucose & Electrolytes এর সব ব্র্যান্ড