Cloxacillin
ব্যবহার
ক্লক্সাসিলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, সাধারণ পেনিসিলিনে কাজ করে না এমন জীবাণুসহ। যেমন:
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, যেমন ফোঁড়া, ইমপেটিগো, সেলুলাইটিস ও ক্ষতে সংক্রমণ।
- হাড় ও অস্থিসন্ধির সংক্রমণ।
- স্ট্যাফাইলোকক্কাসজনিত নিউমোনিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ।
আরও বেশি ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে এটি প্রায়ই অ্যাম্পিসিলিনের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্লক্সাসিলিন পেনিসিলিন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দিয়ে ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। অনেক স্ট্যাফাইলোকক্কাস নিজেকে রক্ষা করতে পেনিসিলিনেজ নামে একটি এনজাইম তৈরি করে; সাধারণ পেনিসিলিন এতে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ক্লক্সাসিলিন হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, মুখে: সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর ৫০০ mg। গুরুতর সংক্রমণে ডাক্তার বেশি মাত্রা দিতে পারেন।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স নির্দেশমতো দেন।
খালি পেটে খান, খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে। সারাদিনে সমান ব্যবধানে খান এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড রক্তে ক্লক্সাসিলিনের মাত্রা বাড়ায়।
- মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা বদলাতে পারে; বাড়তি রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- বমি বা ডায়রিয়া হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে; বাড়তি সুরক্ষা নিন।
কারা খাবেন না
- ক্লক্সাসিলিন বা যেকোনো পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে সেফালোস্পোরিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে মারাত্মক অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি ও হালকা র্যাশ।
মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে আমবাত), তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (ঔষধ শেষ করার কয়েক সপ্তাহ পরেও), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় পেনিসিলিন সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়; ডাক্তারের পরামর্শে খান। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, মুখে ছত্রাক বা র্যাশ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান। কিডনি বা লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘ কোর্সে লিভার ও রক্তকণিকার পরীক্ষা লাগতে পারে। দীর্ঘদিন বা বারবার খেলে ছত্রাক বা এমন সংক্রমণ হতে পারে যাতে এই ঔষধ কাজ করে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে, কদাচিৎ খিঁচুনি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পেনিসিলিনেজ-প্রতিরোধী পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ক্যাপসুল ও শুকনো পাউডার 30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন বানানোর পর লেবেলের নির্দেশ মানুন; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 2 থেকে 8°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখতে হয় এবং ৭ দিন পর ফেলে দিতে হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Cloxacillin এর সব ব্র্যান্ড