Parecoxib
ব্যবহার
প্যারেকক্সিব একটি ইনজেকশনযোগ্য ব্যথানাশক, যা প্রাপ্তবয়স্কদের অস্ত্রোপচারের পর মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা অল্প সময়ের জন্য কমাতে ব্যবহৃত হয়। ট্যাবলেট খাওয়া সম্ভব না হলে হাসপাতালে এটি দেওয়া হয়, যাতে অপারেশনের পরের দিনগুলোতে আফিমজাতীয় (ওপিওয়েড) ব্যথানাশকের প্রয়োজন কমে।
কীভাবে কাজ করে
প্যারেকক্সিব শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ভালডেকক্সিব নামের সক্রিয় রূপে পরিণত হয়। ভালডেকক্সিব বেছে বেছে COX-2 নামের এনজাইমকে বাধা দেয়। এই এনজাইম প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে, যা আঘাতের জায়গায় ব্যথা, ফোলা ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। মূলত COX-2 এর ওপর কাজ করায় পুরনো প্রদাহনাশক ঔষধের তুলনায় পাকস্থলীর সুরক্ষা আবরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ওপর এর প্রভাব কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা নার্স এটি শিরায় বা মাংসপেশির গভীরে ইনজেকশন হিসেবে দেন। মাত্রা ও কতবার দেওয়া হবে তা চিকিৎসক ঠিক করেন, সাধারণত কয়েক দিনের বেশি নয়। বয়স্ক, কম ওজনের এবং লিভারের সমস্যা থাকা রোগীদের দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা কম রাখা হয়। যত দ্রুত সম্ভব ট্যাবলেটে বদলে দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- অ্যাসপিরিন ও অন্যান্য NSAID এর সাথে পাকস্থলীতে ঘা ও রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- ACE ইনহিবিটর, অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার ও ডাইইউরেটিকের মতো রক্তচাপের ঔষধের কার্যকারিতা কমতে পারে এবং একসাথে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের সাথে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
- ফ্লুকোনাজল এর মাত্রা বাড়াতে পারে; এর সাথে লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- প্যারেকক্সিব, ভালডেকক্সিব বা সালফোনামাইড ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে।
- অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID নেওয়ার পর হাঁপানি, আমবাত, নাকের পলিপ বা তীব্র অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে।
- হার্টের বাইপাস সার্জারির (CABG) পরের ব্যথায়।
- হার্ট ফেইলিউর, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা রক্তসঞ্চালনের গুরুতর রোগে।
- সক্রিয় পাকস্থলীর ঘা বা রক্তপাত এবং প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগে।
- গুরুতর লিভারের রোগ, গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, পেটব্যথা, বদহজম, পিঠব্যথা, রক্তচাপ বেড়ে বা কমে যাওয়া, গোড়ালি ফোলা, চুলকানি, পটাশিয়াম কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা এবং দাঁত তোলার পর ড্রাই সকেট। কম ক্ষেত্রে লিভার এনজাইম বৃদ্ধি, কিডনির সমস্যা, পাকস্থলীতে রক্তপাত, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া বিরল।
বুকে ব্যথা, শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা বা রক্তবমি, মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, ফোসকা বা চামড়া ওঠা ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, অথবা প্রস্রাব খুব কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে প্যারেকক্সিব একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি শিশুর হার্ট ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসবে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থার অন্য সময়েও চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে এটি এড়ানো হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়; প্রয়োজন হলে পরামর্শমতো বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতা
- সবচেয়ে কম মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- বয়স্ক মানুষ এবং উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, শরীরে পানি জমা বা পাকস্থলীর ঘায়ের ইতিহাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- এটি জ্বরের মতো সংক্রমণের লক্ষণ লুকিয়ে ফেলতে পারে।
- চিকিৎসার সময় রক্তচাপ, কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্তপাত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে পেটের সমস্যা, ঝিমুনি, কিডনির সমস্যা বা রক্তপাত হতে পারে। চিকিৎসা দল সহায়ক চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), নির্বাচিত COX-2 ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানোর পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Parecoxib এর সব ব্র্যান্ড