Cyclosporine
ব্যবহার
সাইক্লোস্পোরিন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত রাখে। খাওয়ার বা ইনজেকশন আকারে এটি কিডনি, লিভার বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পর অঙ্গ প্রত্যাখ্যান ঠেকাতে এবং তীব্র সোরিয়াসিস, তীব্র একজিমা, তীব্র রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও কিছু কিডনি রোগে ব্যবহৃত হয়। চোখের ড্রপ হিসেবে এটি প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক চোখ ও কিছু অ্যালার্জিক চোখের সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
টি সেল নামের শ্বেত রক্তকণিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ আক্রমণ চালায়। সাইক্লোস্পোরিন এই কোষের ভেতরের একটি সংকেত বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গের ওপর আক্রমণ কমে এবং ত্বক, অস্থিসন্ধি বা চোখের প্রদাহ কমে। চোখে এটি অশ্রুগ্রন্থিকে স্বাভাবিক পানি তৈরিতেও সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যাপসুল, সিরাপ ও ইনজেকশন বিশেষজ্ঞের ঔষধ। ওজন ও রক্তে ঔষধের মাত্রা দেখে ডোজ ঠিক করা হয়, তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঠিক চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যাপসুলের ব্র্যান্ড বদলাবেন না, কারণ সব ব্র্যান্ড একইভাবে শোষিত হয় না। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স দেন। চোখের ড্রপ সাধারণত প্রতিটি আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার, প্রায় ১২ ঘণ্টা পরপর, অথবা নির্দেশমতো দিতে হয়। কন্টাক্ট লেন্স খুলে ড্রপ দিন এবং ১৫ মিনিট পর আবার পরুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খাওয়ার সাইক্লোস্পোরিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আছে। কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, ইরিথ্রোমাইসিন, ডিলটিয়াজেম, ভেরাপামিল ও জাম্বুরার রস এর মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট মাত্রা কমাতে পারে। ট্যাক্রোলিমাস, অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক বা পটাশিয়াম ধরে রাখা প্রস্রাবের ঔষধের সাথে কিডনির ক্ষতি বা পটাশিয়াম বাড়ার ঝুঁকি থাকে। এটি স্ট্যাটিন ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়ায়। জীবিত টিকা এড়িয়ে চলুন। সব চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান যে আপনি এটি খাচ্ছেন।
কারা খাবেন না
- সাইক্লোস্পোরিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- সোরিয়াসিস, একজিমা বা আর্থ্রাইটিসের রোগীর কিডনি দুর্বল, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত সংক্রমণ বা ক্যান্সার থাকলে
- চোখের ড্রপ: চোখে সক্রিয় সংক্রমণ থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খাওয়া বা ইনজেকশনে: রক্তচাপ বাড়া, কিডনির কার্যক্ষমতা কমা, হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, মাড়ি ফুলে বড় হওয়া, লোম বেড়ে যাওয়া, পেটের সমস্যা, পটাশিয়াম ও কোলেস্টেরল বাড়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়া। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকের ক্যান্সার ও লিম্ফোমার ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। চোখের ড্রপে: জ্বালা, লাল হওয়া ও অল্প সময়ের জন্য ঝাপসা দেখা।
জ্বর বা গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ, দৃষ্টি পরিবর্তনসহ তীব্র মাথাব্যথা বা খিঁচুনি, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, অথবা তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাওয়ার সাইক্লোস্পোরিন কেবল তখনই দেওয়া হয় যখন চিকিৎসক মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর। এটি বুকের দুধে যায়, তাই খাওয়ার সময় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। চোখের ড্রপ রক্তে খুব সামান্য যায়, তবুও ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তচাপ, কিডনি, রক্তে ঔষধের মাত্রা, পটাশিয়াম ও চর্বি পরীক্ষা করতে হয়। কড়া রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন। দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার রাখুন। যেকোনো সংক্রমণ দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে কিডনির ক্ষতি, বমি, ঝিমুনি ও মাথাব্যথা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন। চোখের ড্রপ বেশি দিলে সাধারণত ক্ষতি হয় না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রোগ প্রতিরোধ দমনকারী (ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। লেবেলে না বললে ক্যাপসুল বা সিরাপ ফ্রিজে রাখবেন না। একবার ব্যবহারের চোখের ড্রপের ভায়াল ব্যবহারের পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Cyclosporine এর সব ব্র্যান্ড