Cyclophosphamide
ব্যবহার
বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই অন্য ঔষধের সাথে সাইক্লোফসফামাইড দিয়ে চিকিৎসা করেন:
- লিম্ফোমা, কিছু লিউকেমিয়া, মাল্টিপল মায়েলোমা, স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার এবং শিশুদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার;
- গুরুতর অটোইমিউন রোগ, যেমন কিডনিতে লুপাস বা রক্তনালির প্রদাহ (ভাসকুলাইটিস);
- স্টেরয়েডে কাজ না করা শিশুদের কিছু কিডনির রোগ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম)।
অস্থিমজ্জা বা স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের আগে শরীর প্রস্তুত করতেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
সাইক্লোফসফামাইড একটি অ্যালকিলেটিং এজেন্ট। লিভারে সক্রিয় হওয়ার পর এটি দ্রুত বিভাজিত হওয়া কোষের (যেমন ক্যান্সার কোষ) DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে সেগুলো বাড়তে পারে না। এটি অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও শান্ত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা নির্ভর করে রোগ, শরীরের আকার, রক্তকণিকার সংখ্যা ও অন্য চিকিৎসার ওপর, এবং শুধু বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া হয়।
ইনজেকশন বা স্যালাইন: হাসপাতালে ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত নার্স দেন।
ট্যাবলেট: সাধারণত সকালে আস্ত গিলে ফেলুন। ভাঙবেন বা চিবাবেন না।
মূত্রথলি রক্ষা করতে চিকিৎসার দিন ও পরের এক-দুই দিন প্রচুর পানি পান করুন এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করুন। মূত্রথলি রক্ষার জন্য মেসনা নামের ঔষধও দেওয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য ক্যান্সারের ঔষধ ও রেডিওথেরাপি: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে।
- অ্যালোপুরিনল: অস্থিমজ্জার ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- জীবন্ত টিকা (যেমন মুখে খাওয়ার পোলিও, হাম বা ইয়েলো ফিভার): চিকিৎসার সময় ও পরে কিছুদিন নেওয়া যাবে না।
- হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ, যেমন ডক্সোরুবিসিন: হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
- লিভারের এনজাইম বদলায় এমন ঔষধ, যেমন রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন বা ফেনিটয়েন, এর প্রভাব বদলাতে পারে।
আপনি যে সব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, তা বিশেষজ্ঞকে জানান।
কারা খাবেন না
- অস্থিমজ্জার গুরুতর বিকলতা
- সক্রিয় মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা মূত্রথলিতে প্রদাহ
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
- সাইক্লোফসফামাইডে এলার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব ও বমি, চুল পড়া, ক্ষুধা কমা, মুখে ঘা, ক্লান্তি, রক্তকণিকা কমে যাওয়া (সংক্রমণ, রক্তপাত, রক্তস্বল্পতা), প্রস্রাবে রক্ত বা মূত্রথলিতে জ্বালা, এবং মাসিক বন্ধ হওয়া বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়া।
কম ক্ষেত্রে বা পরে: হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, এবং বহু বছর পরে নতুন ক্যান্সারের সামান্য ঝুঁকি।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা গলা ব্যথা; প্রস্রাবে রক্ত বা প্রস্রাবে ব্যথা; অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত; শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা পা ফোলা; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; অথবা এমন বমি যে পানিও পেটে রাখা যাচ্ছে না, হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাইক্লোফসফামাইড গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। নারীদের চিকিৎসার সময় ও পরে এক বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ এড়াতে হবে; পুরুষদের চিকিৎসার সময় ও পরে কয়েক মাস, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, কনডম ব্যবহার করা উচিত। এটি স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব ঘটাতে পারে, তাই শুরুর আগে ডিম্বাণু বা শুক্রাণু সংরক্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- কিডনি বা লিভারের রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- সংক্রমিত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকুন এবং ঘন ঘন হাত ধুন।
- ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগতে পারে।
- ডোজের পর ২ দিন ভাঙা ট্যাবলেট বা রোগীর শরীরের তরল ধরতে হলে পরিচর্যাকারী গ্লাভস পরবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন গুরুতর। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। মূত্রথলি রক্ষা ও রক্তকণিকা কমে যাওয়ার চিকিৎসাসহ লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ (অ্যালকিলেটিং এজেন্ট) ও ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। দ্রবণ হাসপাতালের কর্মীরা তৈরি ও সংরক্ষণ করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Cyclophosphamide এর সব ব্র্যান্ড