D-chiro-inositol
ব্যবহার
ডি-কাইরো-ইনোসিটল একটি প্রাকৃতিক চিনির মতো উপাদান (ইনোসিটল), যা খাদ্য সম্পূরক হিসেবে পাওয়া যায়। এটি মূলত পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে এমন নারীদের জন্য ব্যবহার হয়, প্রায়ই মায়ো-ইনোসিটলের সাথে একসাথে। অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বস্ফোটন এবং ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সাড়া (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স) ঠিক রাখতে এটি সাহায্য করতে পারে। সন্তান ধারণের চিকিৎসার অংশ হিসেবেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
ইনোসিটল কোষের ভেতরে বার্তাবাহকের কাজ করে এবং শরীরকে ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দিতে সাহায্য করে। ডিম্বাশয়ে ডি-কাইরো-ইনোসিটল ও মায়ো-ইনোসিটলের সঠিক ভারসাম্য স্বাভাবিক হরমোন তৈরি ও ডিম্বাণুর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের কাজ ভালো হলে PCOS এ বেড়ে যাওয়া পুরুষ হরমোনের (অ্যান্ড্রোজেন) মাত্রাও কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্যাকের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খান, কারণ বিভিন্ন পণ্যে ডি-কাইরো-ইনোসিটলের পরিমাণ আলাদা। মিশ্র ট্যাবলেট বা স্যাশে সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার, খাবারের সাথে বা পরে খাওয়া হয়। সন্তান ধারণের চিকিৎসায় ডাক্তারের দেওয়া নিয়মে খান। ফল পেতে সাধারণত অন্তত ২ থেকে ৩ মাস নিয়মিত খেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি রক্তের শর্করা সামান্য কমাতে পারে, তাই মেটফরমিন, ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের অন্য ঔষধ খেলে সুগার মেপে দেখুন এবং ডাক্তারকে জানান। হরমোনের চিকিৎসা বা সন্তান ধারণের ঔষধ চললে ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
ইনোসিটল বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও বমি বমি ভাব, পেটে গ্যাস, পাতলা পায়খানা, পেটে অস্বস্তি, মাথাব্যথা বা ক্লান্তি হতে পারে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায়। মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা সারা শরীরে চুলকানিসহ র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডি-কাইরো-ইনোসিটলের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। খাওয়ার সময় গর্ভধারণ হলে ডাক্তারকে জানান, তিনি চালিয়ে যাবেন কিনা বলবেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
এটি একটি সম্পূরক, PCOS, ডায়াবেটিস বা বন্ধ্যাত্বের জন্য দেওয়া চিকিৎসার বিকল্প নয়। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত সুগার মাপুন। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না; শুধু ডি-কাইরো-ইনোসিটল বেশি খেলে উপকার বাড়ে না, বরং পেটের সমস্যা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বিপদের সম্ভাবনা কম, তবে বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা পেটব্যথা হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাদ্য সম্পূরক (ইনোসিটল, ইনসুলিনের কার্যকারিতা সহায়ক)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
D-chiro-inositol এর সব ব্র্যান্ড