Sucroferric Oxyhydroxide
ব্যবহার
সুক্রোফেরিক অক্সিহাইড্রক্সাইড একটি ফসফেট বাইন্ডার। যেসব প্রাপ্তবয়স্ক দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং হিমোডায়ালাইসিস বা পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাঁদের রক্তে ফসফেটের মাত্রা বেশি থাকলে (হাইপারফসফেটেমিয়া) তা নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি যথেষ্ট ফসফেট বের করতে পারে না, আর দীর্ঘদিন ফসফেট বেশি থাকলে হাড় দুর্বল হয় ও রক্তনালি শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ট্যাবলেটে আয়রনভিত্তিক একটি যৌগ থাকে যা অন্ত্রেই থেকে যায়। খাবারের সাথে চিবিয়ে খেলে এটি খাবারের ফসফেটকে আটকে ফেলে, ফলে ফসফেট রক্তে শোষিত না হয়ে মলের সাথে বের হয়ে যায়। এর আয়রনের খুব সামান্য অংশই শরীরে শোষিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে ১,৫০০ mg (আয়রন হিসেবে), অর্থাৎ তিন বেলার প্রধান খাবারের প্রতিটির সাথে ৫০০ mg। রক্তের ফসফেট পরীক্ষার ফল দেখে ডাক্তার কয়েক সপ্তাহ পরপর মাত্রা ঠিক করেন; সাধারণত সর্বোচ্চ মাত্রা দিনে ৩,০০০ mg। ট্যাবলেট পুরো গিলে না খেয়ে চিবিয়ে বা গুঁড়া করে খাবারের সাথে খেতে হবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
জানা প্রতিক্রিয়া কম, তবে ফসফেট বাইন্ডার কিছু ঔষধের শোষণ কমাতে পারে। লেভোথাইরক্সিন, ডক্সিসাইক্লিন ও অন্যান্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক এই ঔষধের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খেতে বলা হতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ খান সবগুলোর কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- সুক্রোফেরিক অক্সিহাইড্রক্সাইড বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- হিমোক্রোমাটোসিস বা শরীরে আয়রন জমে যাওয়ার অন্য কোনো রোগ থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে কালো বা গাঢ় রঙের মল (এটি স্বাভাবিক ও ক্ষতিকর নয়), ডায়রিয়া, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি, বদহজম, পেটব্যথা ও মুখের স্বাদ বদলে যাওয়া। মাত্রা বেশি হলে রক্তে ফসফেট খুব কমে যেতে পারে।
গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ), রক্তবমি, অথবা তীব্র পেটব্যথা বা দুর্বলতার সাথে আলকাতরার মতো কালো মল হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য খুব কম। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই ব্যবহার করা উচিত। খুব সামান্য শোষিত হয় বলে বুকের দুধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবু বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
সম্প্রতি পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, পেরিটোনাইটিস, পাকস্থলী বা অন্ত্রের বড় অপারেশন, অথবা গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। এই ঔষধের কারণে মল কালো হয় বলে অন্ত্রের রক্তক্ষরণ চোখে নাও পড়তে পারে, তাই অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ হলে জানান। কিডনির খাদ্যতালিকা মেনে চলুন এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব কম শোষিত হয় বলে বেশি খেলেও আয়রন বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা কম, তবে রক্তের ফসফেট অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফসফেট বাইন্ডার (আয়রনভিত্তিক), দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Sucroferric Oxyhydroxide এর সব ব্র্যান্ড