Diroximel Fumarate
ব্যবহার
ডাইরক্সিমেল ফিউমারেট প্রাপ্তবয়স্কদের রিল্যাপসিং বা বারবার ফিরে আসা ধরনের মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) রোগে ব্যবহৃত হয়। MS একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্নায়ুর সুরক্ষা আবরণ নষ্ট করে। এই ঔষধ রোগের আক্রমণের সংখ্যা কমাতে এবং অক্ষমতা বাড়ার গতি ধীর করতে সাহায্য করে। একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ এটি শুরু করেন ও তত্ত্বাবধান করেন।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে ঢোকার পর ডাইরক্সিমেল ফিউমারেট দ্রুত মনোমিথাইল ফিউমারেটে পরিণত হয়, যা ডাইমিথাইল ফিউমারেট থেকেও তৈরি হয়। এই পদার্থ কোষের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা (Nrf2) সক্রিয় করে এবং স্নায়ুর আবরণে আক্রমণকারী রোগপ্রতিরোধ কোষকে শান্ত রাখে। ডাইমিথাইল ফিউমারেটের তুলনায় এতে পেটের সমস্যা সাধারণত কম হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞের নির্দেশ ঠিকমতো মেনে চলুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ নিয়ম হলো প্রথম ৭ দিন ২৩১ mg দিনে দুইবার, তারপর ৪৬২ mg (দুটি ২৩১ mg ক্যাপসুল) দিনে দুইবার। ক্যাপসুল পুরো গিলে খান; ভাঙবেন, চিবাবেন বা খুলবেন না। খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া যায়, তবে ডোজের সময় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। একই সময়ে অ্যালকোহল পান করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ডাইমিথাইল ফিউমারেট বা অন্য ফিউমারেট ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না।
- মেথোট্রেক্সেট, অ্যাজাথায়োপ্রিন বা উচ্চ মাত্রার কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো রোগপ্রতিরোধ দুর্বলকারী ঔষধের সাথে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- চিকিৎসার সময় জীবিত টিকা নেওয়া উচিত নয়; যেকোনো টিকার আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
- চিকিৎসক পরামর্শ দিলে ডোজের প্রায় ৩০ মিনিট আগে অ্যাসপিরিন খেলে ত্বক লাল হওয়া কমতে পারে।
- কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
কারা খাবেন না
- ডাইরক্সিমেল ফিউমারেট, ডাইমিথাইল ফিউমারেট বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- বর্তমানে ডাইমিথাইল ফিউমারেট খাচ্ছেন এমন ব্যক্তি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ফ্লাশিং (ত্বকে গরম লাগা, লালভাব বা চুলকানি), পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি ও বদহজম, যা বেশির ভাগ প্রথম কয়েক সপ্তাহে হয়। এটি লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত রক্তকণিকা কমাতে পারে এবং লিভার এনজাইম বাড়াতে পারে। কদাচিৎ PML (প্রগ্রেসিভ মাল্টিফোকাল লিউকোএনসেফালোপ্যাথি) নামের মস্তিষ্কের গুরুতর সংক্রমণ, দাদ (হারপিস জোস্টার) বা অন্য গুরুতর সংক্রমণ দেখা গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে ফুসকুড়ির মতো তীব্র অ্যালার্জি, শরীরের একপাশে নতুন বা বাড়তে থাকা দুর্বলতা, চলাফেরায় আনাড়িভাব, দৃষ্টি, চিন্তা বা স্মৃতির পরিবর্তন, উচ্চ জ্বরের মতো গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ, অথবা গাঢ় প্রস্রাবসহ ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য সীমিত। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান; স্পষ্ট প্রয়োজন হলেই কেবল ব্যবহার করা হয়। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- লিম্ফোসাইট কমে যেতে পারে বলে শুরুর আগে, প্রায় ৬ মাস পরে এবং তারপর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন লিভার পরীক্ষা করা হয়।
- গুরুতর সংক্রমণ হলে চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রাখা হতে পারে।
- কিডনি বা লিভারের রোগ অথবা আগের কোনো গুরুতর সংক্রমণের কথা চিকিৎসককে জানান।
- স্নায়ুতন্ত্রের নতুন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ফ্লাশিং ও পেটের সমস্যার মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে। পরামর্শের জন্য চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোমডুলেটর, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের রোগ নিয়ন্ত্রণকারী চিকিৎসা (ফিউমারেট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Diroximel Fumarate এর সব ব্র্যান্ড