Deferoxamine Mesylate
ব্যবহার
ডেফেরক্সামিন মেসাইলেট (ডেসফেরিঅক্সামিন নামেও পরিচিত) শরীর থেকে আয়রন বের করার একটি ঔষধ (কিলেটিং এজেন্ট)। দীর্ঘদিন শরীরে আয়রন জমে গেলে, যেমন থ্যালাসেমিয়া বা বারবার রক্ত নিতে হয় এমন রোগে, হঠাৎ আয়রন বিষক্রিয়ায় এবং দীর্ঘদিন ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীর শরীরে অ্যালুমিনিয়াম জমে গেলে এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডেফেরক্সামিন মুক্ত আয়রন এবং ফেরিটিনের মতো ভাণ্ডারে জমা আয়রনের সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে একটি যৌগ তৈরি করে, যা প্রস্রাব ও মলের সাথে বের হয়ে যায়। এতে আয়রনের বোঝা কমে এবং হৃৎপিণ্ড, লিভার ও গ্রন্থিগুলো আয়রনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। অ্যালুমিনিয়ামকেও এটি একইভাবে আটকায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি শুধু ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, সাধারণত ছোট পাম্পের সাহায্যে ত্বকের নিচে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে ধীরে, অথবা মাংসপেশি বা শিরায়। প্রথম মাত্রাগুলো ডাক্তার বা নার্স দেন বা তত্ত্বাবধান করেন, পরে রোগী বা পরিচর্যাকারীকে বাড়িতে দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে। আয়রনের মাত্রা, ওজন ও রোগ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয় এবং ঠিক ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দিতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- বেশি মাত্রার ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) আয়রন নিঃসরণ বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা খারাপ করতে পারে; ডাক্তার বললে তবেই খাবেন
- প্রোক্লোরপেরাজিনের সাথে ডেফেরক্সামিন নেওয়ায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে
- চিকিৎসার সময় গ্যালিয়াম-৬৭ স্ক্যানের ফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে
কারা খাবেন না
- ডেফেরক্সামিনে অ্যালার্জি থাকলে
- গুরুতর কিডনি রোগ বা প্রস্রাব একেবারে না হলে, যদি না রোগী ডায়ালাইসিসে থাকেন
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লাল হওয়া, ফোলা বা চুলকানি, মাথাব্যথা, বমিভাব, গিঁট বা পেশিতে ব্যথা, জ্বর এবং লালচে বাদামি প্রস্রাব (আয়রন যৌগের কারণে, ক্ষতিকর নয়)। বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে শ্রবণশক্তি কমা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ঝাপসা বা কম দেখা, শিশুদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে ইয়েরসিনিয়া অন্ত্রের সংক্রমণ।
শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হঠাৎ দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তি হারানো, ডায়রিয়া ও পেটব্যথার সাথে বেশি জ্বর, অথবা প্রস্রাব খুব কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, সাধারণত এটি এড়ানো হয়, যদি না উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় নিয়মিত চোখ ও কানের পরীক্ষা দরকার। শিশুদের বৃদ্ধি পরীক্ষা করতে হয়। ইনফিউশন খুব দ্রুত দেওয়া যাবে না, কারণ শিরায় দ্রুত দিলে মুখ লাল হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও শক হতে পারে। খুব বেশি মাত্রায় শিরায় দেওয়ায় ফুসফুসের সমস্যা হয়েছে। পেটব্যথা বা ডায়রিয়ার সাথে জ্বর হলে দ্রুত জানান। মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দেখা হতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
লক্ষণের মধ্যে আছে মুখ লাল হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, পেটের সমস্যা, ঝাপসা দেখা, অস্থিরতা ও কিডনি বিকল হওয়া। ইনফিউশন বন্ধ করে হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়; ডায়ালাইসিস সাহায্য করতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন কিলেটিং এজেন্ট; আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম জমে যাওয়ার প্রতিষেধক।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ২৫°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তৈরি করা দ্রবণ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন, প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Deferoxamine Mesylate এর সব ব্র্যান্ড