Dexibuprofen (S Ibuprofen)
ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ডেক্সিবুপ্রোফেন ব্যবহার হয়, যেমন:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং গিঁট ও পেশির অন্যান্য সমস্যার ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া;
- মাসিকের ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া);
- হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা, যেমন দাঁতব্যথা, কোমরব্যথা, মাথাব্যথা এবং ছোট আঘাত বা দাঁতের চিকিৎসার পরের ব্যথা।
কীভাবে কাজ করে
ডেক্সিবুপ্রোফেন হলো আইবুপ্রোফেনের সক্রিয় অংশ (S রূপ), তাই কম মাত্রায় প্রায় একই উপকার দেয়। এটি একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID)। এটি COX এনজাইম আটকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি কমায়; এই রাসায়নিকগুলোই ব্যথা, ফোলা ও জ্বর ঘটায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: ব্যথা অনুযায়ী সাধারণত দিনে ২ বা ৩ বার ২০০ থেকে ৪০০ mg। দিনে ১২০০ mg এর বেশি খাবেন না।
- মাসিকের ব্যথা: প্রয়োজনে দিনে সর্বোচ্চ ৩ বার ২০০ থেকে ৩০০ mg।
- বয়স্ক এবং লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে: ডাক্তারের পরামর্শে সবচেয়ে কম মাত্রা দিয়ে শুরু।
- ১৮ বছরের কম বয়সী: প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাধারণত ব্যবহার হয় না।
খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। যত কম মাত্রায় ও যত কম সময় কাজ হয়, ততটুকুই খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক) বা নিয়মিত অ্যাসপিরিনের সাথে খাবেন না। রক্ত পাতলা করার ঔষধ (যেমন ওয়ারফারিন), স্টেরয়েড ও কিছু বিষণ্নতার ঔষধ (SSRI) এর সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এটি রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের কাজ কমাতে পারে এবং এদের সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ডেক্সিবুপ্রোফেন, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID এ এলার্জি থাকলে (এগুলো খেয়ে হাঁপানি, চুলকানি-চাকা বা নাক দিয়ে পানি পড়া হলে)
- পাকস্থলীতে সক্রিয় আলসার বা রক্তপাত থাকলে, বা আগে বারবার আলসার হয়ে থাকলে
- আগে NSAID খেয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রে রক্তপাত হয়ে থাকলে
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগে
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপা। কম ক্ষেত্রে: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, র্যাশ ও শরীরে পানি জমা।
NSAID পাকস্থলীতে আলসার ও রক্তপাত ঘটাতে পারে, এবং দীর্ঘদিন খেলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
এগুলো হলে ঔষধ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্ত বা কফির দানার মতো বমি, বুকে ব্যথা, শরীরের এক পাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব, মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, গুরুতর বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ, বা খুব কম প্রস্রাব হওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন; শেষ ৩ মাসে একেবারেই খাওয়া যাবে না, কারণ এতে শিশুর ক্ষতি ও প্রসবে সমস্যা হতে পারে। NSAID গর্ভধারণেও বাধা দিতে পারে। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যেতে পারে; অল্প দিনের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, বা আগে পাকস্থলীর আলসার থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- বয়স্কদের পাকস্থলীতে রক্তপাত ও কিডনির সমস্যার সম্ভাবনা বেশি।
- মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, এতে পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার জন্য কয়েক দিনের বেশি খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে পেটব্যথা, বমি, ঝিমুনি, মাথাব্যথা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতি, রক্তপাত বা খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID), ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Dexibuprofen (S Ibuprofen) এর সব ব্র্যান্ড