Miglitol
ব্যবহার
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি মিগলিটল ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত খাবারের পর রক্তে চিনির হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কমায়। এটি একা অথবা সালফোনাইলইউরিয়ার মতো অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
মিগলিটল একটি আলফা গ্লুকোসিডেজ ইনহিবিটর। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের সেই এনজাইমগুলোকে বাধা দেয় যেগুলো শর্করা ও চিনিকে ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে। ফলে শর্করা ধীরে হজম ও শোষিত হয়, আর খাবারের পর রক্তে চিনি হঠাৎ বেশি বাড়ে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত শুরুর মাত্রা ২৫ mg দিনে তিনবার, প্রতিটি প্রধান খাবারের প্রথম গ্রাসের সাথে। ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ পরে চিকিৎসক এটি বাড়িয়ে ৫০ mg দিনে তিনবার করতে পারেন। সর্বোচ্চ মাত্রা ১০০ mg দিনে তিনবার। কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে সেই বেলার ঔষধও বাদ দিন। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন বা গ্লিক্লাজাইড, গ্লিমেপিরাইডের মতো সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে রক্তে চিনি কমে যেতে পারে। তখন সাধারণ চিনি নয়, গ্লুকোজ (ডেক্সট্রোজ) ট্যাবলেট বা পানীয় খান, কারণ মিগলিটল সাধারণ চিনির হজম ধীর করে।
- এটি প্রোপ্রানোলল ও র্যানিটিডিনের শোষণ কমাতে পারে।
- হজমের এনজাইম সাপ্লিমেন্ট ও চারকোল ট্যাবলেট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- স্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ও থাইরয়েডের ঔষধ রক্তে চিনি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- মিগলিটলে অ্যালার্জি থাকলে
- ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে
- অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, অন্ত্রে ঘা বা অন্ত্রে বাধা, অথবা অন্ত্রে বাধা হওয়ার প্রবণতা থাকলে
- হজম বা শোষণে প্রভাব ফেলে এমন দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের রোগ থাকলে
- অন্ত্রে বাড়তি গ্যাসে খারাপ হতে পারে এমন অবস্থা, যেমন বড় হার্নিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি এবং পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া। এগুলো সময়ের সাথে প্রায়ই কমে যায় এবং বেশি মিষ্টি খাবার এড়ালে কম হয়। মাঝে মাঝে ত্বকে র্যাশ হতে পারে। একা ব্যবহারে এটি খুব কম ক্ষেত্রেই রক্তে চিনি কমায়।
পেট ফুলে গিয়ে তীব্র ব্যথা, অবিরাম বমি, বা পায়খানা ও বায়ু বের না হলে, অথবা গ্লুকোজ খাওয়ার পরও না সারা রক্তে চিনি খুব কমে যাওয়ার লক্ষণ (কাঁপুনি, ঘাম, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি সুপারিশ করা হয় না; রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে সাধারণত ইনসুলিনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। মিগলিটল অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়াও খেলে সাথে গ্লুকোজ ট্যাবলেট বা গ্লুকোজ পানীয় রাখুন।
- কিডনির উল্লেখযোগ্য সমস্যায় এটি সুপারিশ করা হয় না।
- অসুস্থতা, আঘাত বা অস্ত্রোপচারের সময় রক্তে চিনির নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে; চিকিৎসক সাময়িকভাবে ইনসুলিনে বদলাতে পারেন।
- পরামর্শমতো নিয়মিত রক্তে চিনি পরীক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
শুধু এই ঔষধ বেশি খেলে সাধারণত রক্তে চিনি কমে না, তবে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়া হতে পারে। ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা শর্করাসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন এবং লক্ষণ তীব্র হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ, আলফা গ্লুকোসিডেজ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Miglitol এর সব ব্র্যান্ড