Doripenem
ব্যবহার
ডোরিপেনেম একটি হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক। পেটের ভেতরের জটিল সংক্রমণ (যেমন অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়ার পর) এবং জটিল মূত্রনালি ও কিডনির সংক্রমণসহ গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে এটি দেওয়া হয়, বিশেষ করে যখন জীবাণু অনেক অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ডোরিপেনেম কার্বাপেনেম শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। সিউডোমোনাসসহ অনেক গ্রাম নেগেটিভ জীবাণুর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডোরিপেনেম শুধু হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় ধীরে স্যালাইনের মাধ্যমে (সাধারণত ১ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে) দেন। মাত্রা, কতবার দেওয়া হবে এবং কতদিন চলবে তা ডাক্তার সংক্রমণ ও কিডনির অবস্থা দেখে ঠিক করেন। কিডনির কার্যক্ষমতা কম হলে মাত্রা কমানো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডোরিপেনেম রক্তে ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিডের (সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট) মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়, ফলে মৃগী রোগীর খিঁচুনি হতে পারে; তাই সাধারণত এ দুটি একসাথে দেওয়া হয় না। প্রোবেনেসিড ডোরিপেনেমের মাত্রা বাড়াতে পারে। ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ডোরিপেনেম বা অন্য কার্বাপেনেমে (যেমন মেরোপেনেম, ইমিপেনেম) অ্যালার্জি থাকলে।
- পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিনে আগে মারাত্মক অ্যালার্জি (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, র্যাশ, চুলকানি এবং স্যালাইনের জায়গায় জ্বালা বা ফোলা সাধারণ। কারও মুখে বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। লিভারের রক্ত পরীক্ষায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, শরীরজুড়ে ফোসকাযুক্ত র্যাশ, খিঁচুনি, অথবা চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এটি অন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তবেই দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যাবে কি না ডাক্তার পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি, কিডনির সমস্যা, মৃগী বা মস্তিষ্কের অন্য রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। ভেন্টিলেটরে থাকা অবস্থায় হওয়া নিউমোনিয়ায় এটি সুপারিশ করা হয় না। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বেড়ে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি দেওয়া হলে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয় এবং ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে ঔষধ শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কার্বাপেনেম অ্যান্টিবায়োটিক (বিটা ল্যাকটাম অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, প্যাকের নির্দেশমতো রাখুন। তৈরি করা দ্রবণ প্যাকে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Doripenem এর সব ব্র্যান্ড