Carbamazepine
ব্যবহার
কার্বামাজেপিন ব্যবহার হয়:
- নানা ধরনের মৃগীরোগ (খিঁচুনি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে ফোকাল খিঁচুনি ও পুরো শরীরের টনিক-ক্লোনিক খিঁচুনিতে;
- ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার তীব্র মুখের স্নায়ুব্যথা কমাতে;
- বাইপোলার ডিসঅর্ডারে মেজাজের ওঠানামা প্রতিরোধে, যখন অন্য চিকিৎসা উপযুক্ত নয়, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে।
অ্যাবসেন্স বা মায়োক্লোনিক খিঁচুনিতে এটি ব্যবহার হয় না, কারণ এতে এগুলো বাড়তে পারে।
কীভাবে কাজ করে
কার্বামাজেপিন একটি খিঁচুনিরোধী ঔষধ। এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের সোডিয়াম চ্যানেল আটকে অতিসক্রিয় কোষগুলোকে শান্ত করে, ফলে খিঁচুনি ও স্নায়ুব্যথা সৃষ্টিকারী অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত ছড়াতে পারে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। মাত্রা ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।
- মৃগীরোগ, প্রাপ্তবয়স্ক: প্রায়ই দিনে ১ বা ২ বার ১০০ থেকে ২০০ mg দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। সাধারণ নিয়মিত মাত্রা দিনে ৪০০ থেকে ১২০০ mg, ২ বা ৩ ভাগে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া, প্রাপ্তবয়স্ক: প্রায়ই দিনে ১ বা ২ বার ১০০ mg দিয়ে শুরু করে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বাড়ানো হয়, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- বাইপোলার ডিসঅর্ডার: মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- শিশু: বয়স ও ওজন অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন মতো।
খাবারের সাথে বা পরে খান। দীর্ঘক্ষণ কাজ করা (মডিফায়েড-রিলিজ) ট্যাবলেট নির্দেশনা অনুযায়ী আস্ত বা অর্ধেক করে গিলে খান; গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না। বয়স্কদের কম মাত্রা লাগতে পারে।
হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি ফিরে আসতে বা বাড়তে পারে। কোনো ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, যদি পরের ডোজের সময় কাছাকাছি না হয়; একসাথে দুই ডোজ খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কার্বামাজেপিন অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এটি অন্য ঔষধ দ্রুত ভেঙে ফেলে কার্যকারিতা কমাতে পারে, যেমন হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ (বড়ি, ইমপ্ল্যান্ট), ওয়ারফারিন, মৃগীরোগের আরও কিছু ঔষধ, কিছু বিষণ্নতার ঔষধ, কিছু এইচআইভির ঔষধ ও কিছু হৃদরোগের ঔষধ। আবার ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, ফ্লুকোনাজল, আইসোনিয়াজিড, ভেরাপামিল ও ডিলটিয়াজেমের মতো ঔষধ কার্বামাজেপিনের মাত্রা ক্ষতিকর পর্যায়ে বাড়াতে পারে। MAO ইনহিবিটর জাতীয় বিষণ্নতার ঔষধের সাথে বা তা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাওয়া যাবে না। জাম্বুরার রস ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। আপনি কার্বামাজেপিন খান, তা সবসময় ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- কার্বামাজেপিন বা ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতার ঔষধে এলার্জি থাকলে
- হৃৎস্পন্দনের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যায় (এভি ব্লক)
- আগে অস্থিমজ্জার সমস্যা (রক্তকণিকা খুব কমে যাওয়া) হয়ে থাকলে
- অ্যাকিউট পোরফাইরিয়া (একটি বিরল বংশগত রক্তের রোগ) থাকলে
- গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ, বিশেষ করে শুরুর দিকে: মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা, ঝাপসা বা দুটো করে দেখা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, মুখ শুকানো ও হালকা র্যাশ। রক্তে সোডিয়াম কমে যেতে পারে, এতে বিভ্রান্তি, মাথাব্যথা বা খিঁচুনি বাড়তে পারে।
ত্বকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বেশিরভাগ প্রথম কয়েক মাসে। যাদের শরীরে HLA-B*1502 জিন আছে তাদের ঝুঁকি বেশি; দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, তাই শুরুর আগে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা; না সারা জ্বর, গলাব্যথা বা মুখের ঘা; অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট; খিঁচুনি বেড়ে যাওয়া; তীব্র বিভ্রান্তি; বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কার্বামাজেপিন গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটির (যেমন স্পাইনা বিফিডা) ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিও বিপজ্জনক; দ্রুত ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে ডাক্তারের সাথে পরিকল্পনা করুন, পরামর্শমতো ফলিক অ্যাসিড খান, এবং মনে রাখুন এটি হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণকে অকার্যকর করতে পারে। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়। অনেক মা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন, তবে শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, কম খাওয়া বা র্যাশ হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (রক্তকণিকা, লিভার ও সোডিয়াম) লাগতে পারে।
- লিভার, কিডনি বা হৃদরোগ, গ্লুকোমা বা প্রস্রাবের সমস্যায় বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা হতে পারে; ঔষধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এক কোম্পানি বা ধরন থেকে অন্যটিতে বদলাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে তীব্র ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, ধীর শ্বাস ও অচেতনতা হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা; সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী ঔষধ (অ্যান্টিকনভালসেন্ট); মেজাজ স্থিতিশীলকারী হিসেবেও ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Carbamazepine এর সব ব্র্যান্ড