Riluzole
ব্যবহার
রিলুজোল অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্তদের আয়ু বাড়াতে বা শ্বাসযন্ত্রের সহায়তার প্রয়োজন পিছিয়ে দিতে ব্যবহার হয়। ALS হলো মোটর নিউরন রোগের সবচেয়ে সাধারণ রূপ, যেখানে পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
কীভাবে কাজ করে
রিলুজোল ঠিক কীভাবে কাজ করে তা পুরোপুরি জানা নেই। ধারণা করা হয়, এটি মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর রাসায়নিক বার্তাবাহক গ্লুটামেটের নিঃসরণ ও প্রভাব কমায়। অতিরিক্ত গ্লুটামেট মোটর স্নায়ুকোষের ক্ষতি করতে পারে, তাই এটি কমালে কোষগুলো সুরক্ষিত থাকতে পারে এবং রোগের গতি ধীর হতে পারে। এটি ALS সারায় না বা আগের ক্ষতি ফিরিয়ে আনে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৫০ mg দিনে ২ বার, ১২ ঘণ্টা পরপর, প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে। বেশি মাত্রায় বেশি উপকার হয় না। ডোজ বাদ পড়লে সেটি বাদ দিয়ে পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে নিন। গিলতে অসুবিধা হলে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তরল রূপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ফ্লুভোক্সামিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, এনোক্সাসিন ও বেশি পরিমাণ ক্যাফেইনের মতো CYP1A2 ইনহিবিটর: রিলুজোলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- রিফাম্পিসিন, ওমিপ্রাজল, ধূমপান ও কয়লায় পোড়ানো খাবার: মাত্রা কমাতে পারে।
- লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ: লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
- অ্যালকোহল: বেশি পান এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- রিলুজোলে অ্যালার্জি থাকলে।
- লিভারের রোগ, বা শুরুর আগে লিভার এনজাইম (ট্রান্সঅ্যামিনেজ) স্বাভাবিকের উপরের সীমার তিন গুণের বেশি হলে।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে দুর্বলতা, বমিভাব, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মুখের চারপাশে ঝিমঝিম, বুক ধড়ফড় ও লিভার টেস্ট বেড়ে যাওয়া। কম ক্ষেত্রে শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া (নিউট্রোপেনিয়া) বা ফুসফুসের প্রদাহ (ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ) হতে পারে।
জ্বর, গলা ব্যথা বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ; নতুন শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব বা তীব্র ক্লান্তি; অথবা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রিলুজোল ব্যবহার করা যাবে না। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
- প্রথম ৩ মাস প্রতি মাসে, প্রথম বছরের বাকি সময় প্রতি ৩ মাসে এবং তারপর নিয়মিত লিভার টেস্ট করা হয়।
- জ্বর হলে দ্রুত জানান, কারণ শ্বেত রক্তকণিকা পরীক্ষা লাগতে পারে।
- মাথা ঘোরা বা ঘুম ঘুম ভাব হলে গাড়ি চালাবেন না।
- কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে বিভ্রান্তি, স্মৃতিভ্রংশ, খিঁচুনি, কোমা বা রক্তের সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মোটর নিউরন রোগের স্নায়ু সুরক্ষাকারী ঔষধ (গ্লুটামেট নিঃসরণ প্রতিরোধক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Riluzole এর সব ব্র্যান্ড