Fluticasone Furoate
ব্যবহার
ফ্লুটিকাসোন ফুরোয়েট একটি কর্টিকোস্টেরয়েড, যা প্রধানত দুই রূপে ব্যবহার হয়:
- নাকের স্প্রে: এলার্জিক রাইনাইটিস (মৌসুমি ও সারা বছরের নাকের এলার্জি) এর লক্ষণ, যেমন নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক চুলকানো ও হাঁচি, এবং সাথে হওয়া চোখ চুলকানো ও পানি পড়া কমাতে।
- ইনহেলার (সাধারণত ভিলান্টেরলের সাথে, কখনও উমেক্লিডিনিয়ামসহ): হাঁপানি ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ সিওপিডি (COPD) এর নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায়। হঠাৎ শ্বাসকষ্টের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় এটি নয়।
কীভাবে কাজ করে
এলার্জি ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদানের নিঃসরণ কমিয়ে এটি নাক বা শ্বাসনালীর আবরণের ফোলা ও জ্বালাভাব (প্রদাহ) কমায়। এটি সাথে সাথে নয়, কয়েক দিন নিয়মিত ব্যবহারের পর কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- নাকের স্প্রে (প্রতি স্প্রেতে ২৭.৫ mcg), প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি: সাধারণত দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ২টি করে স্প্রে; লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে এলে দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ১টি স্প্রেই যথেষ্ট হতে পারে। ৬ থেকে ১১ বছরের শিশু: সাধারণত দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ১টি স্প্রে, ডাক্তার বললেই কেবল বাড়ানো হয়। ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং স্প্রে নাকের মাঝখান থেকে সামান্য বাইরের দিকে তাক করুন।
- ইনহেলার: সাধারণত দিনে একবার একই সময়ে একটি ইনহেলেশন; শক্তি ডাক্তার ঠিক করেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিন।
ভালো ফলের জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করুন। নাকের স্প্রের পূর্ণ উপকার পেতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিভারের এনজাইম (CYP3A4) জোরালোভাবে আটকায় এমন ঔষধ, যেমন রিটোনাভির, কোবিসিস্ট্যাট, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল ও ক্লারিথ্রোমাইসিন শরীরে স্টেরয়েডের পরিমাণ ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইনহেলারের মিশ্র ঔষধের ক্ষেত্রে প্রোপ্রানোললের মতো বিটা-ব্লকার ভিলান্টেরলের কাজ কমাতে পারে। অন্য স্টেরয়েডসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ফ্লুটিকাসোন ফুরোয়েট বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ইনহেলার: দুধের প্রোটিনে তীব্র এলার্জি থাকলে, কারণ পাউডারে ল্যাকটোজ থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নাকের স্প্রে: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, নাকে শুষ্কতা বা অস্বস্তি, মাথাব্যথা এবং কদাচিৎ নাকে ঘা।
ইনহেলার: মুখে ছত্রাক সংক্রমণ (মুখ বা গলায় সাদা দাগ), গলা বসে যাওয়া, মাথাব্যথা, সর্দির মতো লক্ষণ, এবং সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে ফুসকুড়ি), ইনহেলার নেওয়ার পরপরই হঠাৎ বুকে শাঁ শাঁ শব্দ বা বুক চেপে আসা, নিউমোনিয়ার লক্ষণ (জ্বর, কাঁপুনি, কাশি বাড়া, কফ বা শ্বাসকষ্ট বাড়া), অথবা দৃষ্টি ঝাপসা বা পরিবর্তিত হলে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
রক্তে অল্প পরিমাণে পৌঁছায়, তবে গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই ডাক্তার উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই ব্যবহার করুন। গর্ভাবস্থায় হাঁপানি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা মা ও শিশু দুজনের জন্যই জরুরি। বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখে এমন সবচেয়ে কম মাত্রা ব্যবহার করুন। দীর্ঘদিন ব্যবহারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায়, শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হতে পারে (ডাক্তার উচ্চতা মাপতে পারেন), অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে প্রভাব পড়তে পারে, এবং ছানি ও গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। যক্ষ্মা, ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, সম্প্রতি নাকে আঘাত বা অপারেশন, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। এই ইনহেলার হঠাৎ শ্বাসকষ্টের জন্য নয়; তাৎক্ষণিক উপশমের ইনহেলার সাথে রাখুন এবং পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বাড়তি ডোজে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন পরামর্শের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহার করলে শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, এবং দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় ব্যবহারের পর ডাক্তারের নির্দেশনা ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (নাকের ও ইনহেলড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। নাকের স্প্রে ফ্রিজে রাখবেন বা জমাবেন না; ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন। ইনহেলার প্রথম ব্যবহারের আগ পর্যন্ত সিল করা ট্রেতে রাখুন এবং খোলার পর প্যাকেটে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Fluticasone Furoate এর সব ব্র্যান্ড