Favipiravir
ব্যবহার
ফ্যাভিপিরাভির একটি ভাইরাসরোধী ঔষধ। প্রথমে এটি নতুন বা নতুনভাবে দেখা দেওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জার (ফ্লু) জন্য অনুমোদন পায়, যখন অন্য ফ্লুর ঔষধ কাজ করে না। বাংলাদেশসহ কিছু দেশে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে হালকা থেকে মাঝারি কোভিড-১৯ এও এটি ব্যবহার হয়েছে। কোভিড-১৯ এ এর উপকারিতার প্রমাণ সীমিত, তাই শুধু ডাক্তার দিলে তবেই খাওয়া উচিত।
কীভাবে কাজ করে
শরীরের ভেতরে ফ্যাভিপিরাভির সক্রিয় রূপে বদলে গিয়ে আরএনএ পলিমারেজ নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়, যা অনেক ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য দরকার। এতে শরীরে ভাইরাস ছড়ানো ধীর হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। সাধারণত প্রথম দিন বেশি মাত্রা (লোডিং ডোজ) দিয়ে শুরু করে পরে কম মাত্রায় দিনে ২ বার অল্প কয়েক দিন দেওয়া হয়, রোগভেদে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিন। ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে মুখে খান এবং ডাক্তারের দেওয়া পুরো কোর্স শেষ করুন। শিশুদের জন্য এটি পরামর্শযোগ্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে: পাইরাজিনামাইড (ইউরিক এসিড আরও বাড়তে পারে); থিওফাইলিন (ফ্যাভিপিরাভিরের মাত্রা বাড়ায়); রেপাগ্লিনাইড ও প্যারাসিটামল (ফ্যাভিপিরাভির এদের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই প্যারাসিটামলের মাত্রা সীমিত রাখতে হতে পারে); এবং ফ্যামসিক্লোভির ও সুলিন্ডাক (এদের কাজ কমে যেতে পারে)।
কারা খাবেন না
- গর্ভবতী বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে।
- ফ্যাভিপিরাভির বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: রক্তে ইউরিক এসিড বাড়া, পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, লিভারের এনজাইম বাড়া এবং শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া। কম ক্ষেত্রে: র্যাশ, বমি ও পেটব্যথা।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয় (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ), চামড়া বা চোখ হলুদ হয়, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হয়, হঠাৎ গিরা ফুলে ব্যথা হয়, অথবা অস্বাভাবিক আচরণ বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ফ্যাভিপিরাভির গর্ভের শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি ও গর্ভপাত ঘটাতে পারে। গর্ভাবস্থায় এটি একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে শুরুর আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর অন্তত ৭ দিন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। ঔষধটি বীর্যে যায়, তাই পুরুষদেরও চিকিৎসার সময় ও পরে অন্তত ৭ দিন কনডম ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর ৭ দিন বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
সতর্কতা
- গেঁটেবাত বা উচ্চ ইউরিক এসিড, লিভারের রোগ বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- চিকিৎসার সময় রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- এটি টিকা বা ডাক্তারের দেওয়া অন্য চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
তথ্য সীমিত। বেশি খেলে ইউরিক এসিড বাড়া ও লিভারের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাইরাসরোধী ঔষধ (আরএনএ পলিমারেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Favipiravir এর সব ব্র্যান্ড