Lactic Acid
ব্যবহার
ল্যাকটিক এসিড ত্বকে ও যৌনাঙ্গের বাইরের অংশে ব্যবহার হয়:
- ত্বকের ক্রিম ও লোশন: শুষ্ক, খসখসে, পুরু বা আঁশযুক্ত ত্বকে, যেমন ইকথিওসিস (মাছের আঁশের মতো ত্বক), কেরাটোসিস পিলারিস (হাত ও উরুতে ছোট খসখসে দানা) এবং ফাটা গোড়ালিতে।
- ইন্টিমেট ওয়াশ ও ভ্যাজাইনাল জেল: যোনিপথের স্বাভাবিক হালকা অম্লতা বজায় রাখতে, যা উপকারী জীবাণুকে সাহায্য করে ও দুর্গন্ধ কমায়।
এটি শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য; খাওয়া যাবে না।
কীভাবে কাজ করে
ল্যাকটিক এসিড একটি আলফা হাইড্রক্সি এসিড (AHA), অর্থাৎ একটি মৃদু প্রাকৃতিক এসিড। ত্বকে এটি মরা কোষ আলগা করে তুলে ফেলে এবং ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক মসৃণ ও নরম হয়। যোনিপথে এটি pH (অম্লতার মাত্রা) স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, যা উপকারী ল্যাক্টোব্যাসিলাস জীবাণুকে টিকিয়ে রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্রিম বা লোশন: আক্রান্ত শুষ্ক ত্বকে দিনে একবার বা দুইবার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো ঘষে দিন, অথবা প্যাকেটের নির্দেশ বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। হাতে চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
- ইন্টিমেট ওয়াশ: গোসলের সময় অল্প পরিমাণ পানির সাথে যৌনাঙ্গের বাইরের অংশে ব্যবহার করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। পণ্যটি সেজন্য তৈরি না হলে যোনিপথের ভেতরে ব্যবহার করবেন না।
- ভ্যাজাইনাল জেল: প্যাকেটের নির্দেশ বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক সেভাবে ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই জায়গায় ত্বক উঠিয়ে দেয় বা জ্বালা করে এমন অন্য পণ্যের (যেমন স্যালিসাইলিক এসিড, ট্রেটিনয়েন বা বেনজয়েল পারঅক্সাইড) সাথে ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- ল্যাকটিক এসিড বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে।
- কাটা, ছেঁড়া, রোদে পোড়া বা বেশি প্রদাহযুক্ত ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হালকা জ্বালা, পোড়া ভাব, লালচে ভাব বা চুলকানি হতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল বা ফাটা ত্বকে; সাধারণত তা কমে যায়। লাগানো জায়গার ত্বক রোদে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন। জ্বালা বেশি হলে বা না কমলে, অথবা যোনিপথে চুলকানি, স্রাব বা দুর্গন্ধ চলতে থাকলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকে বা ইন্টিমেট ওয়াশ হিসেবে ব্যবহৃত ল্যাকটিক এসিড গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনবৃন্তের আশেপাশে লাগাবেন না। গর্ভাবস্থায় ভ্যাজাইনাল জেল ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ, মুখ ও নাকের ভেতরে লাগবে না; চোখে গেলে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং লাগানো ত্বক কড়া রোদ থেকে রক্ষা করুন।
- মুখে ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন; শিশুদের জন্য আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- যোনিপথের এসব পণ্য সংক্রমণ সারায় না; অস্বাভাবিক স্রাব, ঘা বা ব্যথা হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে জ্বালা হতে পারে; পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভুল করে খেয়ে ফেললে মুখ ধুয়ে কিছু পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; ব্যথা বা গিলতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কেরাটোলাইটিক ও ময়েশ্চারাইজিং উপাদান (আলফা হাইড্রক্সি এসিড); যোনিপথের pH নিয়ন্ত্রক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Lactic Acid এর সব ব্র্যান্ড