Filgrastim
ব্যবহার
ফিলগ্রাস্টিম নিউট্রোফিল (সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা শ্বেত কণিকা) এর সংখ্যা বাড়াতে ব্যবহার হয়। ক্যানসারের কেমোথেরাপির পর নিউট্রোফিল কম থাকার সময় কমিয়ে গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের পরে, এবং প্রতিস্থাপনের জন্য অস্থিমজ্জা থেকে স্টেম সেল রক্তে এনে সংগ্রহ করতে এটি দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি তীব্র নিউট্রোপেনিয়া (নিউট্রোফিল কম থাকা) এবং উন্নত পর্যায়ের এইচআইভি সংক্রমণে কিছু রোগীর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফিলগ্রাস্টিম হলো গ্র্যানুলোসাইট কলোনি-স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর (জি-সিএসএফ) নামের শরীরের প্রাকৃতিক প্রোটিনের পরীক্ষাগারে তৈরি রূপ। এটি অস্থিমজ্জাকে বেশি নিউট্রোফিল তৈরি করে রক্তে ছাড়তে সংকেত দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ফিলগ্রাস্টিম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়। এটি চামড়ার নিচে ইনজেকশন বা শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। মাত্রা ওজন ও চিকিৎসার কারণের উপর নির্ভর করে। কেমোথেরাপির পর সাধারণত কেমোথেরাপির অন্তত ২৪ ঘণ্টা পরে শুরু করে রক্তের কণিকা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দেওয়া হয়। এটি ডাক্তার বা নার্স দেন, অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোগী বা পরিচর্যাকারী বাড়িতে দিতে পারেন। কণিকার সংখ্যা দেখতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কেমোথেরাপির আগে বা পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি দেওয়া হয় না, কারণ দ্রুত বাড়তে থাকা অস্থিমজ্জার কোষ কেমোথেরাপিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিথিয়াম নিউট্রোফিল ছাড়া বাড়াতে পারে। অন্য সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ফিলগ্রাস্টিম, পেগফিলগ্রাস্টিমের মতো অন্য জি-সিএসএফ ঔষধ বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: হাড় বা পেশিতে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব বা ব্যথা। হাড়ের ব্যথা সাধারণত প্যারাসিটামল দিয়ে কমানো যায়।
পেটের উপরের বাম দিকে বা বাম কাঁধের ডগায় ব্যথা (প্লীহা বড় হওয়া বা ফেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে), কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট, শরীর ফুলে যাওয়া, দ্রুত ওজন বাড়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়া, লাল বা গাঢ় প্রস্রাব, অথবা র্যাশ, মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই ডাক্তার উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল এটি দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কিনা তা ডাক্তার বলে দেবেন।
সতর্কতা
সিকেল সেল রোগে আক্রান্তদের সিকেল সেল ক্রাইসিস হতে পারে, তাই কড়া পর্যবেক্ষণ দরকার। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাড়ের ঘনত্বের উপর প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত রক্তের কণিকা ও প্লীহার আকার পরীক্ষা করা হতে পারে। আগে ফুসফুসের সমস্যা বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ফিলগ্রাস্টিম দিলে শ্বেত কণিকা খুব বেড়ে যেতে পারে এবং হাড়ে ব্যথা হতে পারে। ডাক্তার চিকিৎসা বন্ধ বা মাত্রা বদলাবেন এবং রক্তের কণিকা পর্যবেক্ষণ করবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তকণিকা তৈরির গ্রোথ ফ্যাক্টর (গ্র্যানুলোসাইট কলোনি-স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর, জি-সিএসএফ)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, আলো থেকে রক্ষার জন্য আসল বাক্সে রাখুন। জমাবেন না এবং ঝাঁকাবেন না। ভুল করে জমে গেলে বা লিফলেটে যতক্ষণ অনুমতি আছে তার চেয়ে বেশি সময় ফ্রিজের বাইরে থাকলে ব্যবহারের আগে ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Filgrastim এর সব ব্র্যান্ড