Finerenone
ব্যবহার
ফাইনেরেনোন টাইপ ২ ডায়াবেটিসজনিত দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে, যখন প্রস্রাবে প্রোটিন (অ্যালবুমিন) যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করা হয়। এটি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ধীর করে এবং হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর ও হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। কিছু দেশে নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট ফেইলিউরেও এটি অনুমোদিত। ডায়াবেটিস ও রক্তচাপের নিয়মিত চিকিৎসার সাথে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ডায়াবেটিক কিডনি রোগে মিনারালোকর্টিকয়েড রিসেপ্টর অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে কিডনি ও হার্টে প্রদাহ ও ক্ষত (ফাইব্রোসিস) তৈরি করে। ফাইনেরেনোন এই রিসেপ্টর আটকে এই অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দেয়। এটি নন-স্টেরয়েড ঔষধ, তাই একই ধরনের পুরনো ঔষধের চেয়ে হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। সাধারণ মাত্রা দিনে ১ বার ১০ mg বা ২০ mg, কিডনির কার্যক্ষমতা (eGFR) ও রক্তের পটাশিয়াম অনুযায়ী ঠিক করা হয়। শুরুর আগে, শুরু বা মাত্রা বদলানোর প্রায় ৪ সপ্তাহ পর এবং পরে নিয়মিত পটাশিয়াম ও কিডনি পরীক্ষা করা হয়; পটাশিয়াম বাড়লে ডাক্তার মাত্রা বদলান বা সাময়িক বন্ধ রাখেন। প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে খান। গিলতে কষ্ট হলে ট্যাবলেট গুঁড়া করে পানি বা নরম খাবারে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন বা রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে একেবারেই খাওয়া যাবে না, কারণ এগুলো এর মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়র্টের মতো CYP3A4 ইনডিউসার এর কাজ কমায়, এড়িয়ে চলুন। আঙুরফল (গ্রেপফ্রুট) ও এর জুস এড়িয়ে চলুন।
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়াম স্পেয়ারিং ডাইউরেটিক (স্পাইরোনোল্যাকটোন, এপলেরেনোন, অ্যামিলোরাইড), ACE ইনহিবিটর, ARB ও ট্রাইমেথোপ্রিমের মতো পটাশিয়াম বাড়ায় এমন ঔষধে উচ্চ পটাশিয়ামের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে ACE ইনহিবিটর বা ARB এর সাথে এটি খান।
- ইরিথ্রোমাইসিন, ভেরাপামিল ও ফ্লুকোনাজোলের মতো মাঝারি CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে বাড়তি পটাশিয়াম পরীক্ষা দরকার।
কারা খাবেন না
- শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর খাচ্ছেন এমন ব্যক্তি।
- অ্যাডিসনস রোগ (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির অক্ষমতা)।
- ফাইনেরেনোন বা কোনো উপাদানে এলার্জি।
- রক্তে পটাশিয়াম আগে থেকেই বেশি থাকলে (৫.০ mmol/L এর বেশি) চিকিৎসা শুরু করা পরামর্শযোগ্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ হলো রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া (হাইপারক্যালেমিয়া)। এছাড়া রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, রক্তে সোডিয়াম কমা, চুলকানি এবং শুরুতে কিডনির কার্যক্ষমতা (eGFR) সামান্য ও সাধারণত সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: মাংসপেশি দুর্বল বা ভারী লাগে, হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত, খুব ধীর বা ধড়ফড় করে, বুকে ব্যথা হয়, অজ্ঞান হয়ে যান বা তীব্র মাথা ঘোরা হয়, কারণ এগুলো বিপজ্জনক উচ্চ পটাশিয়াম বা খুব কম রক্তচাপের লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রাণী গবেষণায় গর্ভের শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা গেছে; ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না, এবং গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত পটাশিয়াম ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ খাবেন না।
- গুরুতর লিভারের সমস্যায় পরামর্শযোগ্য নয়; লিভারের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- বমি, পাতলা পায়খানা বা পর্যাপ্ত পানি না খেলে ডাক্তারকে জানান, কারণ পানিশূন্যতায় পটাশিয়াম বাড়তে ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে সাধারণত উচ্চ পটাশিয়াম ও নিম্ন রক্তচাপ হয়। দ্রুত চিকিৎসা নিন; রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজি লাগতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েড মিনারালোকর্টিকয়েড রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট (কিডনি ও হার্ট সুরক্ষাকারী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Finerenone এর সব ব্র্যান্ড