Gallamine Triethiodide
ব্যবহার
গ্যালামিন ট্রাইইথিওডাইড একটি পেশি শিথিলকারী ঔষধ, যা জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার সময় ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরের পেশি শিথিল করে, যাতে শ্বাসনালীতে টিউব বসানো যায় এবং অস্ত্রোপচার, বিশেষ করে পেট ও বুকের, সহজে করা যায়। এটি একটি পুরনো ঔষধ, যার জায়গায় এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন পেশি শিথিলকারক ব্যবহৃত হয়। এটি শুধু হাসপাতালে অ্যানেস্থেটিস্ট দেন।
কীভাবে কাজ করে
স্নায়ু ও পেশির সংযোগস্থলে অ্যাসিটাইলকোলিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহক ছেড়ে স্নায়ু পেশি নাড়ায়। গ্যালামিন পেশিতে অ্যাসিটাইলকোলিনের রিসেপ্টর আটকে দেয় (নন-ডিপোলারাইজিং নিউরোমাসকুলার ব্লক), ফলে সংকেত পৌঁছায় না এবং শ্বাসের পেশিসহ সব পেশি শিথিল হয়ে যায়। এটি হৃৎপিণ্ডে ভেগাস স্নায়ুর প্রভাবও আটকায়, ফলে প্রায়ই হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। চেতনা বা ব্যথার উপর এর কোনো প্রভাব নেই, তাই এটি সবসময় অ্যানেস্থেটিক ও ব্যথানাশক ঔষধের সাথে দেওয়া হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রোগী ঘুমিয়ে পড়ার পর শুধু অ্যানেস্থেটিস্ট এটি শিরায় ইনজেকশন হিসেবে দেন। ওজন অনুযায়ী হিসাব করে ও অস্ত্রোপচার অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা হয়, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। শ্বাসের পেশি শিথিল থাকে বলে প্রভাব শেষ না হওয়া বা ঔষধ দিয়ে উল্টানো না হওয়া পর্যন্ত ভেন্টিলেটর দিয়ে শ্বাস সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়া অ্যানেস্থেটিক (যেমন আইসোফ্লুরেন বা সেভোফ্লুরেন), অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন জেন্টামাইসিন বা স্ট্রেপটোমাইসিন), পলিমিক্সিন, ক্লিন্ডামাইসিন, ম্যাগনেসিয়াম লবণ, লিথিয়াম, কুইনিডিন, কিছু ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং পটাসিয়াম কমায় এমন ডাইইউরেটিক এর প্রভাব বাড়ায় বা দীর্ঘ করে।
- অস্ত্রোপচারের শেষে নিওস্টিগমিন এর প্রভাব উল্টে দেয়, সাধারণত এট্রোপিন বা গ্লাইকোপাইরোনিয়ামের সাথে।
- আপনার সব ঔষধের কথা অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- গ্যালামিন বা আয়োডাইডে (আয়োডিন) অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর কিডনি বিকলতা, কারণ ঔষধটি প্রায় পুরোটাই কিডনি দিয়ে বের হয় এবং প্রভাব অনেক বেশি সময় থাকতে পারে।
- যেসব অবস্থায় দ্রুত হৃৎস্পন্দন ক্ষতিকর, যেমন কিছু হৃদরোগে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও অন্য স্নায়ু-পেশির রোগ, যদি না অ্যানেস্থেটিস্ট খুব সাবধানে প্রয়োজনীয় মনে করেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া সাধারণ এবং রক্তচাপ সামান্য বাড়তে পারে। প্রভাব পুরোপুরি উল্টানো না হলে অস্ত্রোপচারের পরও দুর্বলতা এবং শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট থাকতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে গুরুতর অ্যালার্জিসহ অ্যালার্জি হতে পারে।
এই প্রভাবগুলো অপারেশন থিয়েটার ও রিকভারি দল নজরে রাখেন ও চিকিৎসা করেন। অ্যানেস্থেসিয়ার পর শ্বাস নিতে, গিলতে বা কথা বলতে কষ্ট, পেশির স্পষ্ট দুর্বলতা, খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অন্য অনেক পেশি শিথিলকারকের চেয়ে গ্যালামিন বেশি পরিমাণে গর্ভফুল পেরিয়ে যায়, তাই গর্ভাবস্থা ও সিজারিয়ান অপারেশনে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়; অ্যানেস্থেটিস্ট সবচেয়ে নিরাপদ ঔষধ বেছে নেবেন। বুকের দুধ খাওয়ানো সম্পর্কে তথ্য কম; কখন আবার শুরু করা যাবে তা অ্যানেস্থেটিস্ট জানাবেন, সাধারণত অ্যানেস্থেসিয়া থেকে সুস্থ হওয়ার পর।
সতর্কতা
- শুধু শ্বাসনালী ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত কর্মীরাই দেবেন, ভেন্টিলেশনের যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রেখে।
- এটি ঘুম আনে না, তাই পর্যাপ্ত অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়া কখনো দেওয়া যাবে না।
- কিডনির রোগ, পটাসিয়াম কম, অ্যাসিডোসিস, শরীরের তাপমাত্রা কম এবং স্নায়ু-পেশির রোগে প্রভাব দীর্ঘ হয়।
- পোড়া ও কিছু পেশির রোগে প্রতিক্রিয়া বদলে যায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে শ্বাসসহ দীর্ঘস্থায়ী পক্ষাঘাত হয়। হাসপাতালে ভেন্টিলেশন চালিয়ে যাওয়া এবং এট্রোপিন বা গ্লাইকোপাইরোনিয়ামের সাথে নিওস্টিগমিন দিয়ে প্রভাব উল্টানোর মাধ্যমে স্বাভাবিক পেশিশক্তি ফিরে আসা পর্যন্ত চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-ডিপোলারাইজিং নিউরোমাসকুলার ব্লকিং এজেন্ট (কঙ্কাল পেশি শিথিলকারক)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Gallamine Triethiodide এর সব ব্র্যান্ড