Cefoxitin
ব্যবহার
সেফক্সিটিন সেফালোস্পোরিন পরিবারের (সেফামাইসিন) একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন। হাসপাতালে এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া (অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে এমন জীবাণু) জড়িত ক্ষেত্রে, যেমন:
- পেট, অন্ত্র, স্ত্রীরোগ ও কিছু অন্য অপারেশনের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে
- পেটের ভেতরের সংক্রমণ, যেমন পেরিটোনাইটিস ও ফোড়া
- নারীদের শ্রোণিঅঞ্চলের সংক্রমণ, পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজসহ
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, ডায়াবেটিক ফুটের সংক্রমণসহ
- কিছু ফুসফুস, মূত্রনালি, হাড়, গাঁট ও রক্তের সংক্রমণ
সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সেফক্সিটিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়। শক্ত প্রাচীর ছাড়া ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। কিছু ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক নষ্ট করতে যে এনজাইম (বিটা-ল্যাকটামেজ) ব্যবহার করে, তার অনেকগুলোর বিরুদ্ধে এটি টিকে থাকে, তাই ব্যাক্টেরয়েডসের মতো অন্ত্রের অ্যানারোবিক জীবাণুর বিরুদ্ধে এটি ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সেফক্সিটিন চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে, কখনো কখনো মাংসপেশিতে দেন। মাত্রা, কতবার ও কতদিন দেওয়া হবে তা সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, রোগীর ওজন এবং কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন। অপারেশনে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণত অপারেশনের কিছুক্ষণ আগে এবং কখনো কখনো পরে অল্প সময়ের জন্য দেওয়া হয়। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী হিসাব করে চিকিৎসকের নির্দেশমতো দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড: রক্তে সেফক্সিটিনের মাত্রা বাড়ায়।
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক ও ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী মূত্রবর্ধক: কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ওয়ারফারিন: রক্ত জমাট বাঁধার উপর প্রভাব বাড়তে পারে; আইএনআর পরীক্ষা করা উচিত।
- মুখে খাওয়ার জীবন্ত টাইফয়েড ও কলেরা টিকার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
- সেফক্সিটিন কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে, যেমন কিছু ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, প্রস্রাবে শর্করার পরীক্ষা ও কুম্বস টেস্ট; ল্যাবরেটরিতে জানিয়ে দিন।
কারা খাবেন না
- সেফক্সিটিন বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে
- পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে আগে তীব্র অ্যালার্জি (অ্যানাফাইলাক্সিস) হয়ে থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ বা সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ইনজেকশনের জায়গায় শিরায় ব্যথা, ফোলা বা প্রদাহ
- ডায়রিয়া, বমিভাব বা বমি
- ত্বকে ফুসকুড়ি বা চুলকানি
- রক্ত পরীক্ষায় পরিবর্তন (লিভার এনজাইম, শ্বেতকণিকা, অণুচক্রিকা)
- মুখ বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, সারা শরীরে ফুসকুড়ি বা ত্বকে ফোসকা পড়লে, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে (চিকিৎসার কয়েক সপ্তাহ পরেও), অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ দেখা দিলে, অথবা খিঁচুনি হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা নার্সকে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সেফক্সিটিন সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, ছত্রাক বা ফুসকুড়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন এবং চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে, বিশেষ করে পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- কিডনির সমস্যা থাকলে মাত্রা কমাতে হয়।
- অন্ত্রের রোগ, বিশেষ করে কোলাইটিসের ইতিহাস থাকলে অ্যান্টিবায়োটিকজনিত ডায়রিয়ার ঝুঁকির কারণে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- দীর্ঘ কোর্সে রক্তকণিকা, কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা লাগতে পারে।
- চিকিৎসকের নির্দেশমতো পুরো কোর্স শেষ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা ঔষধটি দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সম্ভাবনা কম। খুব বেশি মাত্রা, বিশেষ করে কিডনি বিকলতায়, খিঁচুনি ঘটাতে পারে। চিকিৎসা হলো সহায়ক যত্ন, এবং হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে ঔষধটি রক্ত থেকে সরানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক (দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফামাইসিন)
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকের নির্দেশমতো সংরক্ষণ করুন, সাধারণত শুকনো গুঁড়া ৩০°C এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে। মেশানোর পর প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Cefoxitin এর সব ব্র্যান্ড