Glycopyrronium
ব্যবহার
গ্লাইকোপাইরোনিয়াম কয়েকটি রূপে ব্যবহার হয়:
- ইনজেকশন: অপারেশনের আগে ও সময়ে মুখের লালা ও শ্বাসনালীর নিঃসরণ কমাতে, অ্যানেসথেসিয়ার সময় হৃৎস্পন্দন বেশি কমে যাওয়া ঠেকাতে, এবং অপারেশনের শেষে নিওস্টিগমিনের সাথে মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব কাটাতে।
- ইনহেলার: দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ সিওপিডি (COPD) এর নিয়মিত চিকিৎসায়, একা বা অন্য ইনহেলড ঔষধের সাথে। হঠাৎ শ্বাসকষ্টের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় এটি কাজ করে না।
- ট্যাবলেট বা মুখে খাওয়ার দ্রবণ: সেরিব্রাল পালসির মতো স্নায়ুর রোগে অতিরিক্ত লালা ঝরা কমাতে, এবং কখনও অতিরিক্ত ঘামের মতো অন্য সমস্যায়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
গ্লাইকোপাইরোনিয়াম একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ। এটি গ্রন্থি ও মসৃণ পেশিতে অ্যাসিটাইলকোলিন নামের প্রাকৃতিক রাসায়নিক বার্তাবাহকের কাজ আটকে দেয়। ফলে লালা, ঘাম ও শ্বাসনালীর নিঃসরণ কমে, আর শ্বাসনালী শিথিল হয়ে সিওপিডিতে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। এটি সহজে মস্তিষ্কে ঢোকে না, তাই একই ধরনের কিছু ঔষধের চেয়ে বিভ্রান্তি কম ঘটায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন; মাত্রা নির্ভর করে অপারেশনের ধরন ও রোগীর ওজনের ওপর।
- সিওপিডির ইনহেলার: সাধারণত দিনে একবার একই সময়ে একটি ইনহেলেশন (প্রায় ৫০ mcg), বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। শুধু সাথে দেওয়া ডিভাইস দিয়ে নিন এবং ডিভাইসের নির্দেশনা মেনে চলুন।
- ট্যাবলেট বা দ্রবণ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী; কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করেন। খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খান, কারণ খাবার শোষণ কমিয়ে দেয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (যেমন অ্যামিট্রিপটাইলিন), কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও পেটব্যথার ঔষধ (যেমন হায়োসিন) একসাথে খেলে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। টিওট্রোপিয়ামের মতো অন্য দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিকোলিনার্জিক ইনহেলারের সাথে এটি ব্যবহার করবেন না। মুখে খাওয়ার রূপটি পটাশিয়াম ক্লোরাইডের শক্ত ট্যাবলেটের সাথে খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পরিপাকনালীতে ক্ষত হতে পারে। যত ঔষধ খাচ্ছেন সবই ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গ্লাইকোপাইরোনিয়াম বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা থাকলে।
- প্রোস্টেট বড় হওয়া বা মূত্রথলির বাধার কারণে প্রস্রাবে কষ্ট হলে।
- অন্ত্রে বাধা বা অন্ত্র অচল হয়ে থাকলে, তীব্র আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে (ট্যাবলেট ও দ্রবণের ক্ষেত্রে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, ঝাপসা দেখা, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, ঘাম কমে যাওয়া ও বুক ধড়ফড়। ইনহেলারে: মুখ শুকানো, কাশি, গলায় অস্বস্তি ও প্রস্রাবের সংক্রমণ।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: চোখে ব্যথা বা লাল হওয়ার সাথে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে বলয় দেখা যায় (গ্লুকোমার লক্ষণ হতে পারে), একেবারে প্রস্রাব না হয়, ইনহেলার নেওয়ার পরপরই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা বুকে শাঁ শাঁ শব্দ হয়, হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটব্যথা হয়, গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, অথবা এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই কেবল ব্যবহার করা উচিত। বুকের দুধে কতটা যায় জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা, কিডনির সমস্যা (মাত্রা কমানো লাগতে পারে), বড় প্রোস্টেট ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। এটি ঘাম কমিয়ে দেয়, তাই গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে জ্বর আসতে পারে; গরমে ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। ঝাপসা দেখা বা মাথা ঘোরা হলে গাড়ি চালাবেন না। সিওপিডির এই ইনহেলার হঠাৎ শ্বাসকষ্টের জন্য নয়; তাৎক্ষণিক উপশমের ইনহেলার সাথে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি মাত্রায় মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, গরম ও শুকনো চামড়া, জ্বর, খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ঝাপসা দেখা, প্রস্রাব আটকে যাওয়া এবং অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি হতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে নিওস্টিগমিনের মতো ঔষধ দিয়ে এর প্রভাব কাটানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ; ইনহেলার হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি মাসকারিনিক অ্যান্টাগনিস্ট (LAMA)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনহেলারের ক্যাপসুল ব্যবহারের ঠিক আগ পর্যন্ত ব্লিস্টারেই রাখুন। ইনজেকশন হাসপাতালের কর্মীরা সংরক্ষণ ও প্রয়োগ করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Glycopyrronium এর সব ব্র্যান্ড