Haemodialysis Solution
ব্যবহার
হিমোডায়ালাইসিস সলিউশন (ডায়ালাইসিস তরল বা ডায়ালাইসেট) হিমোডায়ালাইসিসের সময় ব্যবহার করা হয়। কিডনি যখন রক্ত পরিষ্কার করার কাজ আর করতে পারে না, তখন এই চিকিৎসায় যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত পরিষ্কার করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বিকল (নিয়মিত ডায়ালাইসিস দরকার এমন রোগী) বা হঠাৎ কিডনি বিকল হলে এটি ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো কিছু বিষ বের করতে বা লবণ ও পানির মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা ঠিক করতেও এটি কাজে লাগে।
কীভাবে কাজ করে
এই দ্রবণে বিশুদ্ধ পানির সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্লোরাইডের মতো লবণ থাকে, সাথে থাকে একটি বাফার (অ্যাসিটেট বা বাইকার্বনেট) এবং কখনো গ্লুকোজ। ডায়ালাইজারের ভেতরে একটি পাতলা পর্দার এক পাশে রোগীর রক্ত এবং অন্য পাশে এই দ্রবণ প্রবাহিত হয়। ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য, অতিরিক্ত পটাশিয়াম ইত্যাদি রক্ত থেকে দ্রবণে চলে যায়, আর বাফার রক্তে জমে থাকা অম্লতা কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই দ্রবণ কখনো খাওয়া বা সরাসরি শরীরে ইনজেকশন দেওয়া হয় না। এটি শুধু ডায়ালাইসিস মেশিনে প্রশিক্ষিত ডায়ালাইসিস কর্মীরা ব্যবহার করেন। কোন ধরনের দ্রবণ, প্রবাহের হার, প্রতিটি সেশনের সময় এবং কত ঘন ঘন ডায়ালাইসিস হবে, তা কিডনি বিশেষজ্ঞ (নেফ্রোলজিস্ট) প্রত্যেক রোগীর জন্য ঠিক করেন। ঘন দ্রবণ মেশিন প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিশোধিত পানির সাথে মিশিয়ে নেয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডায়ালাইসিসে কিছু ঔষধ রক্ত থেকে বের হয়ে যেতে পারে, তাই ডায়ালাইসিসের দিনে চিকিৎসক কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ঔষধের মাত্রা বা সময় বদলাতে পারেন। দ্রবণের পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা ডিগক্সিন সেবনকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই তাদের রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা হয়। আপনি যে সব ঔষধ খান, তা ডায়ালাইসিস দলকে জানান।
কারা খাবেন না
দ্রবণ ঘোলা, রং বদলানো, লিক করা বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলার পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা বাফারের পরিমাণ রোগীর প্রয়োজনের সাথে না মিললে সেটি উপযুক্ত নয়; চিকিৎসক সঠিকটি বেছে নেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ডায়ালাইসিসের সময় বা পরে রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাংসপেশিতে টান, বমি ভাব, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও চুলকানি হতে পারে। দ্রবণ রোগীর জন্য উপযুক্ত না হলে রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা সোডিয়ামের মাত্রা বদলে যেতে পারে।
সেশনের সময় বা পরে অজ্ঞান ভাব, বুকে ব্যথা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, কাঁপুনিসহ জ্বর, বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি হলে সাথে সাথে ডায়ালাইসিস কর্মীদের জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডায়ালাইসিস চালিয়ে যাওয়া যায়। সাধারণত কিডনি বিশেষজ্ঞ সেশন বেশি ঘন ঘন বা বেশি সময় ধরে করার পরিকল্পনা করেন। ডায়ালাইসিসে থাকা গর্ভবতী নারীর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যৌথ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
সতর্কতা
শুধু ডায়ালাইসিস মানসম্পন্ন বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে, কারণ দূষিত পানি মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তচাপ, ওজন এবং রক্তের লবণের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। ডায়ালাইসিস দলের দেওয়া পানি ও খাবারের নিয়ম মেনে চলা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভুল দ্রবণ বা ভুল সেটিং ব্যবহারে রক্তের লবণ বা পানির বিপজ্জনক পরিবর্তন হতে পারে। ডায়ালাইসিস দল তখনই চিকিৎসা থামিয়ে বা বদলে ভারসাম্য ঠিক করেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হিমোডায়ালাইসিস দ্রবণ (কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসার তরল)।
সংরক্ষণ
প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Haemodialysis Solution এর সব ব্র্যান্ড