Eribulin Mesylate
ব্যবহার
এরিবুলিন মেসাইলেট একটি কেমোথেরাপি ঔষধ, যা ছড়িয়ে পড়া (মেটাস্ট্যাটিক) বা স্থানীয়ভাবে অগ্রসর স্তন ক্যান্সারে ব্যবহৃত হয়, যখন অগ্রসর রোগের জন্য অন্তত একটি আগের কেমোথেরাপির (সাধারণত অ্যান্থ্রাসাইক্লিন ও ট্যাক্সেনসহ) পরও ক্যান্সার বেড়ে চলে। অপারেশনে অপসারণযোগ্য নয় এমন লাইপোসারকোমা (এক ধরনের নরম টিস্যুর ক্যান্সার) এও আগের কেমোথেরাপির পর এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
এরিবুলিন মূলত সাগরের এক ধরনের স্পঞ্জে পাওয়া একটি পদার্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মাইক্রোটিউবুল, অর্থাৎ কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র নলের মতো গঠনের বৃদ্ধি আটকে দেয়। ঠিকমতো বিভক্ত হতে না পারা ক্যান্সার কোষ বাড়া বন্ধ করে মারা যায়। এটি টিউমারের আশেপাশের পরিবেশও এমনভাবে বদলাতে পারে যাতে এটি কম ছড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এরিবুলিন শুধু হাসপাতাল বা ক্যান্সার ক্লিনিকে ডাক্তার বা নার্স কয়েক মিনিট ধরে শিরায় ছোট ইনজেকশন হিসেবে দেন, সাধারণত পুনরাবৃত্ত চিকিৎসা চক্রের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে। শরীরের উপরিতলের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করা হয় এবং রক্তকণিকা, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা এবং স্নায়ুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী অনকোলজিস্টের ব্যবস্থাপত্র মতো ঠিক করা হয়। গ্লুকোজ দ্রবণে এটি পাতলা করা যাবে না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হার্টের ট্রেসিংয়ে QT সময় বাড়ায় এমন ঔষধ (যেমন অ্যামিওডারোন, হ্যালোপেরিডল, উচ্চ মাত্রায় অন্ডানসেট্রন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক) হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে
- চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলুন
- অন্য সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা ডাক্তারকে জানান
কারা খাবেন না
- এরিবুলিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে শ্বেত কণিকা কমে যাওয়া (সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে), ক্লান্তি ও দুর্বলতা, চুল পড়া, হাত ও পায়ে অবশ ভাব, ঝিমঝিম বা ব্যথা (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি), বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, ক্ষুধামান্দ্য, গিঁট ও পেশিতে ব্যথা, জ্বর ও লোহিত কণিকা কমে যাওয়া। হৃৎস্পন্দনের পরিবর্তন (QT বৃদ্ধি), মুখে ঘা ও লিভার পরীক্ষার পরিবর্তনও হতে পারে।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র ডায়রিয়া বা বমি, অথবা অবশ ভাব বা দুর্বলতা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এরিবুলিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ মাত্রার পর ডাক্তারের বলা সময় পর্যন্ত (সাধারণত কয়েক মাস) কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে; নারী সঙ্গী থাকা পুরুষদের চিকিৎসার সময় এবং পরামর্শ অনুযায়ী পরের কয়েক মাস জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না। এটি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আগে শুক্রাণু সংরক্ষণের কথা ভাবা যেতে পারে।
সতর্কতা
প্রতিটি মাত্রার আগে রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হয়। লিভার বা কিডনির রোগ, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা এবং পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়, এবং চিকিৎসার আগে এগুলো ঠিক করা উচিত। অবশ ভাব বা ঝিমঝিম শুরুতেই জানান। ক্লান্ত বা মাথা ঘোরা লাগলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে মূলত শ্বেত কণিকা অনেক কমে যায়। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; রোগীকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সাররোধী; মাইক্রোটিউবুল প্রতিরোধক (হ্যালিকন্ড্রিন বি অ্যানালগ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে রাখুন, জমাবেন না এবং ভায়াল বাইরের বাক্সে রাখুন। হাসপাতালে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Eribulin Mesylate এর সব ব্র্যান্ড