Halothane
ব্যবহার
হ্যালোথেন শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়া একটি জেনারেল অ্যানেস্থেটিক। অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার সময় সাধারণ অজ্ঞান অবস্থা (নিয়ন্ত্রিত গভীর ঘুম) শুরু ও বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। নতুন ঔষধ আসায় এখন এর ব্যবহার কম, তবে কিছু হাসপাতালে, শিশুদের ক্ষেত্রেও, এটি এখনো ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
হ্যালোথেন একটি তরল যা বাষ্পে পরিণত হয়। মাস্ক বা শ্বাসনালির টিউবের মাধ্যমে শ্বাসের সাথে নিলে এটি ফুসফুস থেকে রক্তে এবং তারপর মস্তিষ্কে যায়, সেখানে স্নায়ুর সংকেত কমিয়ে দেয়। ফলে রোগী অচেতন হন এবং ব্যথা টের পান না। বাষ্প বন্ধ করলে তা শ্বাসের সাথে বেরিয়ে যায় এবং রোগী ধীরে ধীরে জেগে ওঠেন।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হ্যালোথেন শুধু অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেস্থেটিস্ট বিশেষ ভেপোরাইজার ও অ্যানেস্থেসিয়া মেশিনের মাধ্যমে দেন। রোগীর বয়স, অবস্থা এবং অপারেশনের ধাপ অনুযায়ী অ্যানেস্থেটিস্ট এর ঘনত্ব ঠিক ও পরিবর্তন করেন। এটি কখনো বাড়িতে ব্যবহার করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
হ্যালোথেন হৃদযন্ত্রকে অ্যাড্রেনালিন (এপিনেফ্রিন) ও এ জাতীয় ঔষধের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে, ফলে বিপজ্জনক হৃৎছন্দের সমস্যা হতে পারে। এটি ওপিওয়েড ব্যথানাশক, ঘুমের ঔষধ ও মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব বাড়ায়। বিটা ব্লকার, অ্যামিনোফাইলিন এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের সাথেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আপনার সব ঔষধের কথা অ্যানেস্থেটিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
আগে হ্যালোথেন অ্যানেস্থেসিয়ার পর অজানা কারণে জন্ডিস, জ্বর বা লিভারের সমস্যা হয়ে থাকলে, নিজের বা পরিবারের কারো ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়ার (অ্যানেস্থেসিয়ার প্রতি বিরল কিন্তু বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া) ইতিহাস থাকলে, অথবা অ্যানেস্থেটিস্ট অন্য কারণে অনুপযুক্ত মনে করলে এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া, অগভীর শ্বাস, কাঁপুনি এবং জেগে ওঠার পর বমি ভাব বা বমি। হৃৎছন্দ অনিয়মিত হতে পারে। কদাচিৎ লিভারে মারাত্মক প্রদাহ (হ্যালোথেন হেপাটাইটিস) হয়, যা প্রাপ্তবয়স্কদের বারবার ব্যবহারে বেশি দেখা যায়।
অপারেশনের পর ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, উচ্চ জ্বর, পেটে তীব্র ব্যথা, বিভ্রান্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। অ্যানেস্থেসিয়ার সময় চিকিৎসা দল মারাত্মক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাথে সাথে চিকিৎসা দেন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
হ্যালোথেন জরায়ুকে শিথিল করে এবং প্রসব বা সিজারিয়ানের সময় রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে, তাই গর্ভাবস্থা ও প্রসবে সাধারণত অন্য ঔষধ বেছে নেওয়া হয়। বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণ যায়; মা পুরোপুরি জেগে ও সজাগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সাধারণত আবার দুধ খাওয়ানো যায়।
সতর্কতা
পুরো সময় হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা ও শ্বাস পর্যবেক্ষণ করা হয়। লিভারের ঝুঁকির কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ব্যবহার এড়ানো হয়। লিভারের রোগ, হৃৎছন্দের সমস্যা বা মাথার ভেতরে চাপ বেশি থাকলে বিশেষ সতর্কতা দরকার। জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত হ্যালোথেনে রক্তচাপ অনেক কমে যায়, হৃৎস্পন্দন ধীর হয় এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অ্যানেস্থেটিস্ট বাষ্প বন্ধ করে অক্সিজেন দেন এবং শ্বাস ও রক্তসঞ্চালন সচল রাখেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জেনারেল অ্যানেস্থেটিক (শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়া, হ্যালোজেনেটেড হাইড্রোকার্বন)।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, শক্ত করে বন্ধ, আলোরোধী বোতলে। শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
Halothane এর সব ব্র্যান্ড