L-Lysine HCl
ব্যবহার
এল-লাইসিন এইচসিএল একটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, অর্থাৎ প্রোটিনের এমন একটি উপাদান যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকে নিতে হয়। খাবারে প্রোটিন কম থাকলে এটি পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়, প্রায়ই রুচি ও বৃদ্ধির জন্য ভিটামিনের সাথে সিরাপ বা ট্যাবলেটে থাকে। কেউ কেউ বারবার ঠোঁটে জ্বরঠোসা (কোল্ড সোর) কমাতেও এটি খান, যদিও এর প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
পেশি ও কোলাজেনসহ শরীরের প্রোটিন তৈরিতে লাইসিন দরকার, আর এটি অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। শরীর এটি থেকে কার্নিটিনও তৈরি করে, যা চর্বিকে শক্তিতে রূপান্তরে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, সাপ্লিমেন্ট হিসেবে: সাধারণত দিনে ৫০০ mg থেকে ১ গ্রাম, অথবা প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। মিশ্র সিরাপ ও শিশুদের ঔষধ: লেবেল বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন; শিশুদের মাত্রা বয়সের ওপর নির্ভর করে। পানির সাথে মুখে খান, ভালো হয় খাবারের আগে বা খাবারের সাথে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লাইসিন ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়; যারা বেশি মাত্রায় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খান তারা ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- জেন্টামাইসিন ও অন্যান্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধের সাথে সাবধান থাকুন; এগুলোর সাথে বেশি মাত্রায় লাইসিন খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- লাইসিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- লাইসিন হজমের বিরল বংশগত রোগ থাকলে, যেমন লাইসিনুরিক প্রোটিন ইনটলারেন্স।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কখনও পেটব্যথা, বমিভাব বা পাতলা পায়খানা হতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা গায়ে র্যাশের মতো মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাধারণ খাবার থেকে পাওয়া লাইসিন নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই, তাই শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
- কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে লাইসিন সাপ্লিমেন্ট খান।
- দীর্ঘদিন পরামর্শকৃত মাত্রার বেশি খাবেন না।
- সাপ্লিমেন্ট সুষম খাবারের বিকল্প নয়; শিশুর রুচি কম বা বৃদ্ধি কম হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে পেট কামড়ানো ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। লক্ষণ তীব্র হলে বা শিশু অনেকটা খেয়ে ফেললে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামিনো অ্যাসিড (পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপের বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
L-Lysine HCl এর সব ব্র্যান্ড